চলতি মৌসুমে (২০১৯-২০) সারাদেশে ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৩ হেক্টরে বোরোসহ মোট ৮৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৪ হেক্টরে শীতকালীন ফসল চাষের কর্মসূচি নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বোরোর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ ৯ হাজার ৫৩১ টন (চালে)। এবার পেঁয়াজের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৩ লাখ ৮১ হাজার টন। ঢাকা খামারবাড়ীর ক্রপস উইংয়ের এক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৪ হেক্টরে হাইব্রিড, ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭২৫ হেক্টরে উচ্চফলনশীল ও ৩১ হাজার ২৩৪ হেক্টরে স্থানীয় জাতের বোরো চাষ করা হবে। গত অর্থবছর (২০১৮-১৯) সারাদেশে ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫২ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছিল। বোরো উত্পাদন হয়েছিল ২ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৭ টন। তবে ধানের দরপতনে চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এবার গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৮ হেক্টরে। আর গমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯৬ টন। গত বছর ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৮ হেক্টরে গম চাষ হয়েছিল। গমের উত্পাদন হয়েছিল ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৪ টন। এবার ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৪১ হেক্টরে। আর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৪ লাখ ৬১ হাজার টন। গত বছর ভুট্টা চাষ হয়েছিল ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৪ হেক্টরে। ভুট্টা উত্পাদন হয়েছিল ৪১ লাখ ৮১৭ টন। দেশে ভুট্টার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে চাষ ও উত্পাদন বাড়ছে। এবার সাড়ে ৪ লাখ হেক্টরে আলু চাষের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টন। এরই মধ্যে পুরাদমে আলু চাষ শুরু হয়ে গেছে। গত বছর আলু চাষ হয়েছিল ৪ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৫ হেক্টরে। আলু উত্পাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৯ টন। মিষ্টি আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৪০ হাজার হেক্টরে। মিষ্টি আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭ লাখ ৪৬ হাজার টন।
এবার শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭ হেক্টরে। সবজির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৮৩ টন। অনেক আগে থেকেই শীতকালীন শাকসবজি চাষ শুরু হয়ে গেছে। এখন বাজারে আগাম চাষকৃত সবজিতে ভরপুর। সরষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টরে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার টন। চীনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮৫ হাজার হেক্টরে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার টন। ২৩ হাজার হেক্টরে তিসি ও ৫ হাজার ৩২ হেক্টরে তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ২৪ হাজার টন তিসি ও ৫ হাজার ৩২ টন তিল উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ২ হাজার ৬৯০ হেক্টরে সূর্যমুখী চাষ করে ৪ হাজার ৫৭০ টন উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ২ লাখ ১১ হাজার ৫০২ হেক্টরে মসুর, ৫ হাজার হেক্টরে ছোলা, ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৯ হেক্টরে মুগ, ৩৮ হাজার ৩২২ হেক্টরে মাষকলাই, ২ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টরে খেসারি ও ১২ হাজার হেক্টরে মটর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯১১ টন ডাল জাতীয় ফসল উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
এ বছর পেঁয়াজ চাষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২ লাখ ১১ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ করে ২৩ লাখ ৮১ হাজার টন পেঁয়াজ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। গত বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার ১০০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল। পেঁয়াজ উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ টন। বাজারে পেঁয়াজের দাম অত্যধিক চড়ে যাওয়ায় চাষিরা আগেভাগেই চাষ শুরু করেছে। মুড়িকাটি পেঁয়াজ রোপণ শেষ হয়েছে। মাস খানেকের মধ্যে মুড়িকাটি পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করবে। ৮৮ হাজার হেক্টরে রসুন চাষ করে ৬ লাখ ৯২ হাজার টন রসুন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। গত বছর ৭ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টরে রসুন চাষ হয়েছিল। রসুন উত্পাদন হয়েছিল ৬ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টন।
চলতি রবি মৌসুমে ৪৪ হাজার হেক্টরে ধনিয়া, ১৩ হাজার হেক্টরে কালোজিরা ও এক লাখ ৪০ হাজার হেক্টরে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। আর ৫৮ হাজার ৩০০ টন ধনিয়া, ১৪ হাজার টন কালোজিরা ও ৩ লাখ ৩৪ হাজার টন মরিচ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। আমাদের দেশে শীতকালেই অধিকসংখ্যক ফসলের চাষ হয়। এ সময় পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকে।
