চিলির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বিক্ষোভকারীদের সোমবার নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। রাজপথে ১০ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ অবসানের লক্ষ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা মন্ত্রিসভার রদবদলের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই সংঘর্ষ হয়।
সোমবার চিলির প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছের সান্তিয়াগোর কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে কয়েক হাজার লোকের অংশ নেওয়া একটি শান্তিপূর্ণ র্যালি ক্রমেই সহিংসতার রূপ নেয়। এ সময় বিভিন্ন দোকান লুটপাট করে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ শুরুর দিকে যে ধরনের সহিংসতা হয়েছিল, সোমবার নতুন করে সেই ধরনের সহিংসতা দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা কম বেতন-ভাতা ও পেনশন, ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা এবং ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকায় পিনেরার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। চিলির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সান্তিয়াগোতে সর্বশেষ এ সহিংসতার আগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এর আগে পিনেরা তার মন্ত্রিসভায় তৃতীয় দফা রদবদল করেন। এ দফার রদবদলে একেবারে অজনপ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রেস শাদউইক রয়েছেন। পিনেরা বলেন, ‘চিলির পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। এই নতুন সময়ে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে অনেক দিন ধরেই অসন্তোষ বাড়ছে চিলিতে। সেই অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢেলে দেয় মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধি। ৬ অক্টোবর সরকার মেট্রোরেলের ভাড়া ৮০০ পেসো থেকে বাড়িয়ে ৮৩১ পেসো করার ঘোষণা দিলে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে চিলির মানুষ। গত ১৯ অক্টোবর বিক্ষোভ শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যে তা সহিংস রূপ ধারণ করে।
