শতবর্ষী হালদা সেতুর দুর্দশা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৮

হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী নাজিরহাট বাজারের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীতে ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার হালদা সেতু নির্মাণ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম থেকে হাজার হাজার শরণার্থীর ভারতের যাওয়ার এটি ছিল একমাত্র মাধ্যম। ঐ সময় মানুষ যাতে চলাচল করতে না পারে, সেজন্য পাকহানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে পুনঃযোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৪ সালে সওজ কর্তৃপক্ষ  সেতুটিতে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেন। জিপ, টেম্পো, সিএনজি চললেও ২০১৮ সাল থেকে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এখন শুধু সেতুর উভয় পাড়ের মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল। পার্বত্য খাগড়াছড়ি, বৃহত্তর ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও নাজিরহাটের লক্ষাধিক লোকের যোগাযোগের মাধ্যম এই সেতু। বর্ষার সময় পাহাড়ি বন্যার স্রোত ও সেতুটি নড়বড়ে হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এক কিলোমিটার দূরে ১৯৮৯ সালে নতুন  হালদা সেতু নির্মাণ করায় পুরাতন সেতুর দিকে কর্তৃপক্ষের নজর নেই। আরেকটি কারণ হচ্ছে, সেতুটি দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়। পরিশেষে, ঐতিহাসিক শতবর্ষী হালদা সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করে লক্ষাধিক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত এড়াতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শ্রীধর দত্ত, মেলঘর,পটিয়া, চট্টগ্রাম