আইনের ভাষা হোক সরল

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৯

আইন আছে। আইনের ফাঁকিও আছে। কেন থাকবে আইনের ফাঁক ও ফোকর? এটা বন্ধ করা না গেলেও অন্তত কমানোর কি উপায় নেই? এই ফাঁক ও ফোকরের মূল উত্স ‘যদি’, ‘তবে’, ‘কিন্তু’, ‘বটে’, ‘অথবা’, ‘কিংবা’ ইত্যাদি শর্তযুক্ত শব্দ। এইসব শব্দযুক্ত বাক্য, বাক্যকে জটিল করে তোলে। সত্যি বলতে কী এসব শব্দবন্ধে গঠিত বাক্য আইনের মারপ্যাঁচ তৈরির কারখানা। সরকার তথা সংসদ আইন তৈরি করে, সেই আইনের আলোকে দেশ পরিচালিত হয়। আইন সম্পর্কে জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটলের কথা—‘আইন হচ্ছে আদেশের একটি মার্জিত কাঠামো। আর উত্কৃষ্ট আইনের অর্থ হচ্ছে উত্কৃষ্ট আদেশ।’

সংসদের তৈরি আইন বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগ। আইনের ধারাভাষ্য যদি সরলবাক্যে গঠিত হয়, তবে প্রকৃত দাগি বা দোষী ব্যক্তিদের আইনের ফাঁক গলে ছাড়া পাওয়ার সুযোগ কমবে। বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবে। হবে না নির্দোষ দোষী বলে সাব্যস্ত। দোষীও হবে না নির্দোষ বলে গণ্য। ফলে জনতুষ্টি বাড়বে। ব্রিটিশ আমল থেকে চলা বিভিন্ন আইন উপনিবেশীয় শাসনপদ্ধতির আদলে প্রণীত। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে বিদ্যমান সকল ঔপনিবেশিক আইনের অবসান হওয়াই কাম্য। আইনপ্রণেতা সংসদ-সদস্যদের ওপর আইনগুলোকে যুগোপযোগী করার মহান দায়িত্ব বর্তেছে। দুর্ভাগ্য যে, বাংলাদেশে নতুন আইন হলেও তা হয় জটিল ও দুরূহ, আবার পুরাতন আইনের পরিমার্জন-পরিবর্ধন করলেও তা হয় আগেরটির চেয়ে অধিক দুর্বোধ্য, প্যাঁচালো ও কঠিনতর। পুরানো আইনগুলোর ভাষ্যকে সহজ সাবলীল করা এবং দেশের সমস্ত আইনকে লোকায়ত বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক। সময় ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনগুলোর পৌনঃপুনিক সংস্কার সাধন সময়ের দাবি। চাই আইনের আধুনিকায়ন। চাই প্যাঁচমুক্ত সরল আইন। এই গুরুদায়িত্বটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

তোফায়েল হোসেন খান

সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,

সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ