গত ২৪ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এক পরিপত্রে জাননো হয় যে, এখন থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১৩ থেকে ২০ গ্রেড) সকল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষাগ্রহণ প্রভৃতিসহ নিয়োগ পরীক্ষার সকল কার্যক্রম নিজ নিজ অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়কে নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করতে হবে। এতদিন সেসব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষাগ্রহণ বিভিন্নি সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সম্পাদন করা হতো। নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তব প্রেক্ষাপটে কতোটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে দেখা গেছে, পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার চেয়ে কোন প্রার্থী কত বেশি টাকা দিতে পারবে, তার ভিত্তিতে নির্ধারণ হতো প্রার্থীর মেধাক্রম বা মেধামান। বর্তমান পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান যদি নিজেরাই নিজেদের পরীক্ষাগ্রহণ, প্রশ্নপ্রণয়ন পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে সেই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতির মতো ঘটনা ঘটবে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। সম্প্রতি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার অভিন্ন মানবণ্টনের প্রশ্ন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার একই সিলেবাস হবে, তবে কেন একটি এক ও অভিন্ন নিয়োগ কমিশন গঠন সম্ভব নয়? পিএসসি কিংবা এনটিআরসি-র মতো একটি অভিন্ন কমিশনের হাতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন, খাতা মূল্যায়ন, সুপারিশ করার ক্ষমতা অর্পণ করার ক্ষমতা দেওয়া কি খুব বেশি অযৌক্তিক হবে? এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জমাতুল ইসলাম পরাগ
নগুয়া, হোসেনপুর রোড, কিশোরগঞ্জ
