‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন স্বামী’

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০৪

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামীর ভাড়াটিয়া খুনিরা। আদালতে স্বামী আব্দুর রহমান এ ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চার ভাড়াটিয়া খুনির মধ্যে আলমগীর নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  

সিংগাইর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ থাকেন সিংগাইর উপজেলার বলধরা ইউনিয়নের খৈয়ামুড়ি গ্রামের আব্দুর রহমানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী হাসিনা বেগম (৫০)। শনিবার ভোরে তার গলাকাটা লাশ বাড়ি থেকে আধাকিলোমিটার দূরের একটি ধানখেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ দিনই নিহত হাসিনা বেগমের ছোটো ভাই মেছের আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার নিহত হাসিনা বেগমের স্বামী আব্দুর রহমানকে আটক করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম সারোয়ারের আদালতে আব্দুর রহমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আব্দুর রহমান জানান, খুন করে খুনের মামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ ৩০ শতাংশ জমি হাসিল করার উদ্দেশ্যে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি তার এলাকার আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে আরো তিন জনকে এই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেন। ৫ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার শর্তে ঐ চার জন ভাড়াটিয়া খুনি এ হত্যাকাণ্ডে রাজি হয়। স্ত্রীকে হত্যার আগে খুনিরা আব্দুর রহমানকে তার ছেলের ঘরের আট বছরের নাতি শাওনকে হত্যার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। নাতি তার বংশের প্রদীপ, তাই তিনি স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটিয়া খুনি আলমগীর বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করে। তখন আব্দুর রহমান তার স্ত্রী হাসিনা বেগমকে বলে, আলমগীর এসেছে তোমার সঙ্গে দেখা করতে। স্বামীর কথা অনুযায়ী হাসিনা বেগম বাড়ির বাইরে যান। আলমগীর হাসিনা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে যায়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাসিনা বেগমকে জবাই করে হত্যা করে ও লাশ ধানখেতে ফেলে রাখা হয়।