যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের উপপরিচালক মো. আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১ এ মামলা করেন। দুদকের সজেকা-১ এর উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আনিসের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিছুর রহমান অসত্ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজ নামে স্থাবর ও অস্থাবর মোট ১২ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজ দখলে ভোগ করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে অপরাধ করেছেন।
বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্যমতে, ব্যাংক এশিয়া, প্রাইম ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ফার্স্ট সিরিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস একাউন্ট, এফডিআর, এসটিডিসহ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে আনিসের। এগুলো তার আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই। সব মিলিয়ে তার ১২ কোটি ৮০ লাখ ৬০ হাজার ৯২০ টাকা সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। যার বিপরীতে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ আয়ের উত্স নাই।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ক্যাসিনো ব্যবসাসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দ্বারা এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়াও কাজী আনিছ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দিয়ে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও প্লট এবং রাজধানীর ধানমণ্ডি, উত্তরা, যাত্রাবাড়ি ও ওয়ারীর স্বামীবাগসহ বিভিন্নস্থানে নামে-বেনামে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। যা মামলার তদন্তকালে তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ সাপেক্ষে আমলে নেওয়া হবে।
অপরদিকে, আনিসের স্ত্রী সুমি রহমান নিজে ও তার স্বামী কাজী আনিছুর রহমানের অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দ্বারা বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে একাধিক প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যা মামলা তদন্তকালে আসামির অবৈধ উপায়ে অর্জিত সস্পদের তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়া সাপেক্ষে আমলে নেওয়া হবে। সুমী রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর মোট ১ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
