রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের নিরাপত্তা তদারকির লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোড, গাইড, প্রবিধান ও স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হবে। নির্মাণ পর্যায়ে লংটার্ম ম্যানুফ্যাকচারিং ইকুইপমেন্ট, উত্পাদন পর্যায়ে ফুয়েল উত্তোলন, কমিশনিং ও পরিচালনা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ পরিদর্শন পরিচালনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এতে রাশিয়া, ভারত ও দেশীয় পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এর ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র হবে। একনেক সভায় ১১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর দিন, অর্থাত্ ২০২১ সালের ১৭ মার্চ এই গণনা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
সভায় চারটি মেরিন একাডেমি স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো :৭২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ (বিন্নাটি) পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর-টোক জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; ৩৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সালেহপুর ও নয়ারহাট নামক স্থানে তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, ২৫০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প, ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি প্রকল্প-৩ (আরইআরএমপি-৩), ৫৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পদ্মা শাখা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে নওয়াপাড়া এলাকা এবং পদ্মা নদীর বাম তীরের ভাঙন থেকে চরাত্রা এলাকা রক্ষা প্রকল্প; ৬৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প।
