কলাবিদ্যার শ্রেষ্ঠ বিভাগ সংগীত। এতে মানুষের নীরব মনের সরব অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে মানুষ খুঁজে নেয় তার হাসি, আনন্দ আর বেঁচে থাকার প্রেরণা। চিত্ত পুলকিত হয় সংগীতের মূর্চ্ছনায়। শাস্ত্রীয় সংগীতে পাণ্ডিত্য অর্জন করে শ্রোতার মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী পংকজ বসু।
তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের অমিয় ধারায় নিজেকে সিক্ত করার পাশাপাশি তার সংগীতলব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছেন এ দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে। শুধু তাই নয়, তার নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে শাস্ত্রীয় সংগীত সকল শ্রেণির শ্রোতাদের মাঝে একদিন ডানা মেলবে এমন প্রত্যাশা তার। তার নিত্যনতুন ভাবনা নিয়ে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতকে এর মধ্যে নিরীক্ষাধর্মী অনুষ্ঠান করে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। সম্প্রতি কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার ডমরু মিউজিক্যাল ফাউন্ডেশন, উচ্চাঙ্গ সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য পংকজ বসুকে পণ্ডিত উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
নিজের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে পংকজ বসু বলেন, ‘খুব ব্যস্ততায় কাটছে এখন। তবে সেটা উপভোগও করছি। সম্প্রতি কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার ডমরু মিউজিক্যাল ফাউন্ডেশন, উচ্চাঙ্গ সংগীতে ও ভয়েস ট্রেনিং বিশেষ অবদানের জন্য পণ্ডিত উপাধিতে ভূষিত করেছেন। এটা আমার জীবনের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
গান নিয়ে নিজের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পংকজ বসু বলেন, ‘এ দেশের সকল সংগীতপিপাসুদের কথা মাথায় রেখে বীণকার মিউজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশকে আমি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যেখানে সংগীতের সকল ধারা, সকল তালিম একই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পারবে। তার জন্য চাই সংগীতের পৃষ্ঠপোষক, সেটা সরকারি বা বেসরকারি উভয়ই হতে পারে। নইলে একার পক্ষে এটা করাটা একটু কঠিন মনে হচ্ছে।’
এরমধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গানের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিচয় লাভ করেছে। যেমন দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, ফরিদাবাদ, কলকাতায় আমরা অনুষ্ঠান করেছি। আমি আরো বেশ কিছু কাজ করতে চাই সংগীত নিয়ে। তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে দেশীয় সংগীতকে ছড়িয়ে দিতে নিত্যনতুন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি আমরা।’
ভারতে সম্মানিত ‘পণ্ডিত’ উপাধি প্রসঙ্গে পংকজ বসু বলেন, ‘শুধু সংগীতকে ভালোবেসে এর সঙ্গে মিশে আছি, কতটুকু এতে অবদান রাখতে পেরেছি, তা জানি না। এভাবে অন্য আরেকটি দেশ আমাকে সংগীতে পণ্ডিত উপাধি দেবে ভাবিনি। সত্যিই খুব ভালো লাগছে। শুদ্ধ সংগীতের প্রতি দায়িত্ববদ্ধতা আরো বেড়ে গেল। আমি আমার দেশসহ যেখানেই সংগীতে কাজ করার সুযোগ পাব, সেখানেই নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি সংগীতের কারিগর হিসেবে কাজ করছি।’
