মুহাম্মদ দিদারুল আলম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
তখন পুরো মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় ঠাঁসা। বসার জায়গা না পেয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আবৃত্তিপ্রেমীরা। কখন মঞ্চে আসবেন কাঙ্ক্ষিত আবৃত্তিশিল্পী। অবশেষে উপস্থাপিকা মুমতাহিনা তাবাসসুম মালিহার ঘোষণার পর প্রিয় মুনমুন মুখার্জী মঞ্চে উঠলেন। শোনালেন একের পর এক ভালোবাসার কবিতা। অনুরোধ রাখলেন প্রিয় ভক্তদের। চট্টগ্রাম মাতিয়ে গেলেন কলকাতার এ সময়ের জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন মুখার্জী।
বঙ্গবন্ধু বাচিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম নগরীর একটি হোটেলে বসেছিল মুনমুন মুখার্জীর একক আবৃত্তির আসর। বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজন করে অনুষ্ঠানটি।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পৃথিবী’ কবিতার অংশ বিশেষ দিয়ে কবিতার অবগাহন শুরু করেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় বাচিকশিল্পী মুনমুন মুখার্জী। তার কণ্ঠের এমন ভালোবাসায় এবার মুগ্ধ হলো চট্টলাবাসী। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘প্রণতি গ্রহণ করো’ শিরোনামে মোহাবিষ্ট করে ইটপাথরের জঞ্জালে ভরা শহরে এসে জাদুকরী কণ্ঠে জয় করে গেলেন হলভর্তি দর্শক-শ্রোতার হূদয়। কখনো ছন্দের জাদু কখনো বা বিরহ আবার কখনো বা প্রেমের আবহে একে একে আবৃত্তি করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভালোবাসি ভালোবাসি কবিতার ‘যেখানেই যাও যেভাবেই থাকো, না থাকলেও দূর থেকেই ধ্বনি তোল ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি’—চরণগুলো বলে থামতেই দর্শকসারিতে থাকা ভক্তরা সমস্বরে চিত্কার করে বললেন, আমরাও ভালোবাসি। এরপর তিনি যখন কবি সৃজা ঘোষের ‘বছর চারেক পর’ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন মিলনায়তনে তখন সুনসান নীরবতা। চোখ মুছতেও দেখা গেল অনেককে।
টানা ২ ঘণ্টা যেন মুনমুনে বুঁদ সবাই। কবিতার জাদুছলে হলভর্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখেন এই শিল্পী।
ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামির ফাঁসির রায়ের সংবাদকে উত্সর্গ করে একইসঙ্গে পড়েছেন চট্টগ্রামের কবি সৌমেন অনন্তের ‘সেই মেয়েটা’ কবিতাটি।
মুনমুন মুখার্জী আবৃত্তির ফাঁকে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এ আয়োজনটা সত্যি বিশেষ। বাংলাদেশে আসা এ নিয়ে চতুর্থবার। তাই আবেগটা একটু বেশি। আমি ভারত বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশেই আবৃত্তি করেছি। কিন্তু প্রথমবারের মতো অভিজ্ঞতা হলো হলভর্তি দর্শক-শ্রোতা-কবিতার প্রেমে। এই বিষয়টি আমাকে অভিভূত ও মুগ্ধ করেছে বলে চট্টগ্রামের দর্শকদের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভাষা আর ভালোবাসার মাঝে দুই বাংলার যে কাঁটাতারের বেড়া তা গৌণ, আমি বারবার ফিরে আসতে চাই এই বাংলায় আর শোনাতে চাই কবিতা।’
অনুষ্ঠান শুরু হয় বঙ্গবন্ধু বাচিক বিদ্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ের ফলক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহর ‘পরিচয়’ আবৃত্তি ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সবিশেষ প্রাপ্তি। এরপর বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার শেখ ফাইরুজ নাওয়াল দুর্দানা ও মোহাম্মদ আবু আবিদ।
এছাড়া আবৃত্তি করেন আমন্ত্রিত আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, দেবাশীষ রুদ্র, হাসান জাহাঙ্গীর ও মশরুর হোসাইন।
