প্রান্তিক ৭ লাখ কৃষক পাবে ৮০ কোটি টাকার প্রণোদনা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৭

সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ কৃষককে ৮০ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ টাকার বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরিবহন ব্যয় বাবদ নগদ অর্থ দেবে সরকার।

বর্তমান খরিপ-১ মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চীনাবাদাম, শীতকালীন মুগ, পেঁয়াজ ও পরবর্তী  খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও তিল  উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এতে সারাদেশে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯১ হেক্টর জমিতে আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ক্ষুদ্র ও প্রাান্তিক কৃষকদের মাঝে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ ১ বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার (ডিএপি ও এমওপি) পরিবহন ব্যয় বাবদ নগদ অর্থ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে শস্য বহুমুখীকরণ, উন্নত ও আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন, বিভিন্ন ফসলের উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাত প্রতিস্থাপন জরুরি। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিযোজন যোগ্য প্রতিকূলতা সহিষ্ণু বিভিন্ন ফসল ও ফসলের জাত আবাদ সম্প্রসারণ করা অপরিহার্য। এজন্যই কৃষকদের প্রণোদনা  দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, একজন কৃষক এ প্রণোদনার আওতায় এক বিঘা জমিতে গম চাষের জন্য বীজ, ডিএপি ও এমওপি সারসহ সবমিলিয়ে ১ হাজার ৯৯০ টাকা পাবে। এছাড়া ভুট্টা চাষের জন্য  ১ হাজার ৩১৮ টাকা, সরিষা চাষের জন্য ৮০২ টাকা, সূর্যমুখী চাষের জন্য ২ হাজার ৮১৬ টাকা, চীনাবাদাম চাষের জন্য ১ হাজার ৫৭৫ টাকা, গ্রীষ্মকালীন তিলচাষের জন্য ৮০৮ টাকা, শীতকালীন মুগডাল চাষের জন্য ১ হাজার ১০ টাকা, গ্রীষ্মকালীন তিল চাষের জন্য ৮০৮ টাকা, পেঁয়াজ চাষের জন্য ১ হাজার ৭১৪ টাকার উপকরণ সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ৩৪ হাজার ৯৭১ টন গম, ৩ লাখ ২০ হাজার ৯৮২ টন ভুট্টা, ৪২ হাজার ১৫ টন সরিষা, ৮০৪ টন সূর্যমুখী, ৩ হাজার ৬০৭ টন চীনাবাদাম, ৬ হাজার ৯৭৪ টন শীতকালীন মুগ, ৪ হাজার ৬৪৫ টন গ্রীষ্মকালীন মুগ, ১১ হাজার ৫৩২ টন পেঁয়াজ উত্পাদন হবে। এতে প্রায় ৮৪০ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৯১ টাকা আয় হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূলের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। এর একটি স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায় তা বের করতে হবে। কৃষককে লাভবান না করা গেলে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে না। তিনি বলেন, যে কোনো ফসল আহরণের সময় ঐ জাতীয় ফসল আমদানি বন্ধ রাখা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম বিধায় চাল রপ্তানি করা যাচ্ছে না, তবে আফ্রিকায় রপ্তানির জন্য কাজ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।