ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের বির্তকিত সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের আল মাহমুদের ৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি আপত্তিকর অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই ক্লিপটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নাম উঠে এসেছে। ক্লিপটি দৈনিক ইত্তেফাকের কাছে সংরক্ষিত আছে। ক্লিপটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার কে কত টাকা কামিয়েছেন তার হদিস মিলেছে। বর্তমান বিদ্রোহী ছাত্রলীগ কর্মীদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অবৈধ টাকার উৎস, নেতাদের গাঁজা ভ্যান ও মাল খাওয়ার আকুতি, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়ার ব্যাপারসহ বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে জুবায়ের আল মাহমুদের কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপটি পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো-
জুবায়ের: আরাফাতের (ইবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) কোন ছেলে-পেলের গায়ে হাত দেব না। আরাফাতের যে কটা কাজের ছেলে-পেলে আছে, যারা গাঁজা খায় তাদের গাঁজা খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা একটু মাল খায়, তাদের মাল খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা হলের সুবিধা চায় তাদের হলে সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু সেই কাজটা?
রাকিব: তাইলে আমি এখন কী করব? আমি এখন রাজু ভাইয়ের কাছে যাব?
জুবায়ের: রাজু ভাই তোরে মেনে নিবে না।
রাকিব: কেন?
জুবায়ের: এই হলো মূল কথা। তোর একটাই কাজ পদত্যাগ করা।
রাকিব: রাজু (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) ভাই কী চায়?
জুবায়ের: আমি ঐডা জানি না। কমিটি ভাইঙা দিতে কইছে। হালিম ও শাহীনের (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) কাছ থেকে টাকা খেয়েছে না রাজু। এই ক্যাম্পাস থেকে আট, দশ কোটি কামিয়েছে হালিম। ঐখান থেকে দুই কোটি খাইছে না রাজু। তুমি বুঝো না রাজনীতি? তুমি যদি আমারে দুই কোটি টাকা দাও, তুমি আমারে মাইরা মাডার করলেও আমি তোমার কথা শোনব। আমি শিবির মারতাম। মেলা আগেত্তে আইজকের না সাইফুলের থে। মনে কর তোরে চাকরি দিলাম। বিশ লাখ পেলাম, চলে গেল পাঁচ লাখ। মনে করো গিভ এন্ড টেক কোন প্রমাণ নাই। দিছিস বিশ লাখ তুই আমারে? কোন প্রমাণ নাই রেকর্ডিংও নাই বাল ছিড়তে পারবি তুই আমার? করার কিছু আছে? তুই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চইলা যা। তোরে ভালো কিছু পদ দেবনে। আমার ভালো লাগে না ওগুলো। তোরে নিয়ে ভাবতে আর ওগো নিয়ে ভাবতে আর ভালো লাগে না। আমি যে তোর রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করে দিলাম, তুই আমার কথা কখনো শোনিসনি, গুরুত্ব দিসনি। তোর রুমত্তে আমার সরাই দিছিস, আমার খারাপ লাগছে।
তুই তুহিনের কথা শোনলি।......... আমারে তো কোনদিন আরাফাতেরা ভালোবাসেনি। আজগে ভালোবাসে আমি রাজনীতি করি তাই। আমারে ইউজ করে। এখনো ইউজ করতেছে অস্বীকার করার কিছু নেই।
রাকিব: আমি কী তোর সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করছি?
জুবায়ের: খারাপ ব্যবহার করিসনি। তোরে খারাপ বানানো হয়েছে মেইনলি। আব্দুস সোবহান গোলাপ ফোন দেয় হানিফ ভাইরে। কার জন্য ফোন দেয়? আমি মাডার হয়ে যাই... কালুর ছেলে-পেলের হাতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার জন্য ফোন দেয় এসপি তানভীরকে....... এই কাহিনী জানিস? তোরে কোনদিন কইছি আমি বোকা ? তুই কী মনি করিস আরাফাত, খসরুর ভরসায় আমি ঢাকায় চোষে বেড়াই? তোর মনে হয় তাই? খসরু, আরাফাত আমার টাকা....? টাকা দেয় আমার কাকা আবু বকর হোসেন জামাল। কালকেও পাঁচ হাজার টাকা লাগিছে। আমি জানি আমি থাকলে তুই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবি। এই বিশ্বাস আমার আছে বন্ধু কিন্তু আমি মাডার হয়ে যাব বন্ধু। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব-বউ, বাচ্চা আছে বুঝছিস। নাইলে মনে কর হানিফ আবার মামলা টামলা দিয়ে.....বুঝছিস?। তুই কী চাস আমি মাডার অইয়া যাই? আমি তোরে কথা কইলে, বাস্তব কথা কইলে তুই বিশ্বাস করবি? মনেত্তে কতা কইলে, আমি কতা কইলে তোর চোখে পানি চইলা আইব। আবার বোকের ভেতর অনেক যন্ত্রণা আছে। আমার যন্ত্রণার চেয়ে আমার বোকে অনেক অভিমান। আমার দুঃখ কষ্ট দেখার, আল্লাহ ছাড়া কেউ দেখে না সত্যি কথা বললাম। লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা আরাফাতের কাছ থেকে নিয়ে একটা টাকাও দেয় নাই। আমি জানি যে কোন জায়গা থেকে টাকা নেচ্ছে, আইসতেছে।
জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন,‘ আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। কিভাবে বাইরে আসলো আমার জানা নেই। প্রতিনিয়তই আমাকে চাপের মুখে থাকতে হচ্ছে। বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আমাকে নিয়ে একের পর এক সমস্যা করেই চলেছে।’
ইত্তেফাক/আরকেজি
