চলে গেলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা আমজাদ হোসেন। ব্যাংককের একটি হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন নির্মাতা এসএ হক অলিক।
আদাবরের বাসায় গতমাসে ব্রেন স্ট্রোক করেন আমজাদ হোসেন। সেই সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের লাইফ সাপোর্টে ভর্তি ছিলেন। আমজাদ হোসেনের উন্নত চিকিত্সার দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ৪২ লাখ টাকা প্রদান করেন। এরপর তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানেই ৭৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রসহ শোবিজের নানা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আমজাদ হোসেন ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ সিনেমা দিয়ে মন জয় করে নিয়েছিলেন সারাদেশের মানুষের। এই সিনেমায় গোলাপী চরিত্রে অভিনয় করেন চিত্রনায়িকা ববিতা। প্রিয় এই মানুষটির অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে তাকে দেখতে ছুটি গিয়েছিলেন ববিতা। আমজাদ হোসেনের মৃত্যু সংবাদ শুনে ববিতা জানতে চাইলেন কখন দেশে নিয়ে আসা হবে তাকে। বললেন, ‘আমজাদ ভাইয়ের সাথে যে কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে তা একবারে বলা সম্ভব না। তার অনেকগুলো ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। সেই মানুষটির মৃত্যুর সংবাদ খুবই দুঃখের। তার মতো এমন মেধাবী মানুষ আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। তার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করি। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের গল্প গোলাপী এখন ট্রেনে। যেসময় মুক্তি পায় সেসময়ের প্রতিটি গ্রামবাংলার মানুষের গল্প এটি। ছবির প্রতিটি সংলাপ কি যে অসামান্য ছিল, ভাবতেও ভালো লাগে এখন।’ চিত্রনায়িকা সুচন্দা বলেন, ‘আমজাদ ভাইয়ের চলে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে হবে এটিই বিশ্বাস করার মতো না। আমরা জীবদ্দশায় মানুষকে মূল্য দিতে চাই না। ঠিক তেমনি আমজাদ ভাইও তার সঠিক মূল্যায়নটা পাননি। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজ দিয়ে, আমি বিশ্বাস করি নিজের কাজের জন্য হাজার বছর বেঁচে থাকবেন আমাদের আমজাদ ভাই। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন আমজাদ হোসেন। এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে সফলতা পেয়েছেন।
১৯৭৬ সালে ‘নয়নমনি’ চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন তিনটি জাতীয় পুরস্কার। তার হাতে ওঠে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, শ্রেষ্ঠ প্রযোজক আর শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। আমজাদ হোসেনের দুই পুত্র নাট্যনির্মাতা সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও অভিনেতা-নির্মাতা সোহেল আরমান।
আমজাদ হোসেন ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র শুরু করেন তিনি। তার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায়। পরিচালক হিসেবে নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে, ভাত দে তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন।
