হাড় ও অস্থিসন্ধির যক্ষ্মা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩১

যক্ষ্মা আমাদের দেশে খুবই পরিচিত অসুখ। অনেকেরই ধারণা যক্ষ্মা কেবল ফুসফুসে হয়। এই ধারণা একেবারেই ভুল। শরীরের যে কোনো অঙ্গেই যক্ষ্মা হতে পারে। হাড় এবং অস্থিসন্ধিতেও যক্ষ্মা হয়। কোনো ব্যক্তির ফুসফুসে যক্ষ্মার প্রাথমিক ইনফেকশনের পর যক্ষ্মার জীবাণু রক্তের মাধ্যমে যে কোনো হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কারো কারো হাড় বা অস্থিসন্ধিতে টিবি বা যক্ষ্মা হতে পারে। ফুসফুসে যক্ষ্মার জীবাণু প্রবেশ করে। এরপর সাধারণত তিন বছরের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। তবে সব সময় যে তিন বছরের মধ্যেই হবে এমন হয়। ক্ষেত্রবিশেষে তিন বছর পরও এ রোগ দেখা দিতে পারে। সাধারণত হাড় ও অস্থিসন্ধির যক্ষ্মা শিশু ও যুবকদের মধ্যেই বেশি দেখা দেয়। যে কোনো হাড় বা অস্থিসন্ধিতে এ রোগ হতে পারে। তবে  সাধারণত যেসব হাড় বা অস্থিসন্ধি শরীরের ওজন বহন করে, সেখানেই এ রোগ বেশি হয়। মেরুদণ্ডের হাড়, হিপ জয়েন্টে, হাঁটুর হাড়ে যক্ষ্মা রোগ বেশি হয়ে থাকে।

মেরুদণ্ডের যক্ষ্মায় কোমর বা পিঠের একটা সুনির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা থাকে। এর সঙ্গে থাকে জ্বর ও অরুচি। ওজন কমতে থাকে। ব্যথার কারণে রোগী অনেক সময়  স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না। কখনো মেরুদণ্ডে একটু ফোলা অংশও টের পাওয়া যেতে পারে। অন্য অস্থিসন্ধিতে যক্ষ্মা হলে ব্যথা ও ফোলা থাকে। শুরুর দিকে সাধারণ এক্সরেতে অনেক সময় যক্ষ্মা ধরা পড়ে না। তবে রক্ত পরীক্ষা এবং চামড়ায় মানটু টেস্ট পজিটিভ থাকলে যক্ষ্মা সন্দেহ করতে হয়। মেরুদণ্ডের এমআরআই পরীক্ষায় রোগ ধরা সহজ হয়। তবে এমআরআই দামি পরীক্ষা এবং সব জায়গায় হয় না।

একসময় বলা হতো, ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’। এখন বলা হচ্ছে, ‘যক্ষ্মা ভালো হয়’। পর্যাপ্ত চিকিত্সায় প্রায় সব রোগী নিরাময় লাভ করে। চিকিত্সা না নিলে বরং ২৫ ভাগ রোগী মারা যায়। এইডস আক্রান্ত যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যুর হার বেশি। যক্ষ্মা রোগের জন্য ওষুধ দীর্ঘদিন খেতে হয়। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক। তাই অভিজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে থেকে চিকিত্সা করতে হবে। অনেক সময় অপারেশন লাগতে পারে। দীর্ঘদিন হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিত্সককে দেখাতে হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিত্সা না করতে পারলে অনেক সময় নার্ভের ওপর চাপ পড়ে চিরস্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

nডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ

পাবনা মেডিক্যাল কলেজ