রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বারো মাসি বারি -১১ জাতের আম চাষে সাফল্য মিলছে। অসময়ের এই জাতের আম বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করে ব্যাপক লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উপজেলার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট এ বারি-১১ জাতের আম গাছে শোভা পাচ্ছে অসময়ের এই আম। জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মণ্ডল ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ১৫টি বারি-১১ জাতের বারো মাসি আমের চারা লাগান। প্রায় প্রতিটি গাছে মুকুল ও আম ধরেছে। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রসিদ বলেন, চারা লাগানোর পর গত বছর মুকুল এসেছিল। কিন্তু আম নেওয়া হয়নি। এ বছর প্রায় সব গাছে মুকুল ও আম এসেছে। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের পর নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে ২০১৫ সালে এ জাতটি বাছাই করা হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে দেশি আম। এ জাতটি প্রাকৃতিকভাবে সংকরায়ণে সৃষ্ট। আর এ জাতটি আবিষ্কার করেছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাহাড়তলি উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চট্টগ্রাম। তিনি আরও বলেন, এ আমটি সারাবছরই পাওয়া যাবে। প্রতিটি আম ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হবে। বছরে ৩ বার আম হয়। ফাল্গুন, জ্যৈষ্ঠ ও ভাদ্র মাসে মুকুল আসে এবং জ্যৈষ্ঠ, আর্শ্বিন ও মাঘ মাসে আম ধরে। ফলনও ভালো। এখানে গাছের বয়স কম হওয়ার কারণে ফলন হয়তো একটু কমবে। তবে গাছের বয়স হলে ফলন আশানুরূপ হবে বলে তিনি জানান। কৃষক পর্যায়ে এ জাতটি সম্প্রসারণের জন্য গাছের সায়ন থেকে চারা তৈরি করা হচ্ছে। যা পরে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে।
আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ জাতটি কৃষকদের মাঝে সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সারা বছরই এ আম পাওয়া যাবে। অসময়ে এ আম চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।
