আবুল কাসেম ভূঁইয়া
বাংলাদেশে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী এবং উচ্চমূল্যের মুরগি কাদাকনাথের খামার। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় আমাদের দেশে সর্বপ্রথম কাদাকনাথ মুরগির খামার গড়ে তোলেন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার কামরুল ইসলাম মাসুদ। তিনি ইন্টারনেট থেকে কাদাকনাথ মুরগি সম্পর্কে অবগত হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের মধ্য প্রদেশ থেকে কাদাকনাথ মুরগি এনে স্বল্প পরিসরে পালন শুরু করেন। ক্রমেই মুরগির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাদাকনাথ মুরগির খামার গড়ে তুলেন। বর্তমানে তার খামারে অসংখ্য কাদাকনাথ মুরগি রয়েছে। তিনি কাদাকনাথ মুরগির ডিম, বাচ্চা এবং মুরগি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করছেন। একমাস বয়সী কাদাকনাথ মুরগির বাচ্চার দাম প্রতিটি ৭শ থেকে ৮শ টাকা। দেড়মাস বয়সী বাচ্চা প্রতিটি ১ হাজার টাকা, দুইমাস বয়সী প্রতিটি বাচ্চা ১২শ থেকে ১৫শ টাকা দামে তিনি বিক্রি করছেন। পূর্ণবয়স্ক কাদাকনাথ মুরগি প্রতিটি ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক মোরগ কাদাকনাথের ওজন হয় প্রতিটি ২ থেকে আড়াই কেজি। দেশে তিন ধরনের কাদাকনাথ মুরগি পালন হচ্ছে। সম্পূর্ণ কালো, হোয়াইট পেনসিল ও গোল্ডেন পেনসিল জাতীয় কাদাকনাথ রয়েছে। এই মুরগির মাংস কালো এবং হাড়ও কালো। কাদাকনাথ মুরগির মাংসের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। মানবদেহে শক্তি বৃদ্ধিতে কাদাকনাথ মুরগির মাংস বেশ সহায়ক। তা ছাড়া এজমা রোগীর জন্যও এটি উপকারী। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাদাকনাথের মাংস এবং ডিম উপকারী। জানা যায়, কাদাকনাথ মুরগির আদিনিবাস হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের চিমনাই এলাকায়। যে কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে আয়াম চিমনাই। আমেরিকাতে জনৈক পল ব্রেডসো ইন্দোনেশিয়া থেকে এই মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলে বেশ লাভবান হন। পরবর্তীতে ভারতের মধ্য প্রদেশে এই মুরগির লালনপালন শুরু হয়। বর্তমানে ভারতের মধ্য প্রদেশে কাদাকনাথ মুরগির অসংখ্য খামার রয়েছে। সারা ভারতে ধীরে ধীরে এর খামার গড়ে উঠছে। দেশটিতে কাদাকনাথের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আয়াম চিমনাই ভারতে এসে এর নামকরণ হয় কাদাকনাথ। কাদাকনাথ মুরগি বেশ শক্তিশালী মুরগি। এর তেমন রোগবালাই নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাঁচে। প্রতিটি মুরগি বছরে ১০০টি ডিম দেয়। এদের প্রধান খাদ্য হলো সবুজ ঘাস। এরা খোলা মেলা জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। ঘাস খাওয়ার কারণে এদের রোগ কম হয় এবং ডিমের মান ভালো থাকে। কাদাকনাথ লালন পালনে তেমন ব্যয় হয় না। আমাদের দেশের আবহাওয়া কাদাকনাথ লালন-পালনের জন্য খুবই উপযোগী।
