বিদেশে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৪

সচেতন নাগরিক সমাজের গণজমায়েতে বক্তারা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

সৌদি-ওমানসহ বেশ কয়েকটি দেশের মালিকরা প্রবাসী নারীদের ওপর অত্যাচার করলেও এ সকল ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি নির্যাতিত নারীরা। নারী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ বিষয়ে সরকারকে জানালেও সেসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু সরকারকে বিদেশে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকাল শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর সৌদি মালিকদের নির্যাতন ও জীবননাশের প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক সমাজ’ আয়োজিত এক গণজমায়েতে এসব দাবি জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শেখ বাতেন, নারীপক্ষের সদস্য রওশন আরা, সমাজকর্মী জাকিয়া শিশির, আইনজীবী হাসনাত কাইউম, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতনের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে অধ্যাপক বাতেন বলেন, সৌদি-ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মালিকরা নারীদের ওপর অত্যাচার করে। এ কারণে শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এমনকি পাকিস্তানও সেখানে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করেছে। সৌদি আরবে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ফিলিপাইন সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কৈফিয়ত চায়। অথচ এসব ঘটনায় আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিছুই করে না। ফলে এ দেশের নারীরা অত্যাচার, যৌন-নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।

নারীপক্ষের রওশন আরা বলেন, প্রবাসী নারীদের নির্যাতনের বিষয়টি সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করছে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসও কোনো খোঁজ-খবর নিচ্ছে না। যে সকল দালালের মাধ্যমে নারীরা বিদেশে যাচ্ছে, তাদেরও মনিটরিং করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় যারা নারীদের বিদেশে পাঠাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিদেশে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে ভাবতে হবে। সমাজকর্মী জাকিয়া শিশির বলেন, সৌদি আরবে নারীদের ওপর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেখানে অত্যাচার, ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে দেশে লাশ হয়ে ফিরে আসবে তা মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক রাখাল রাহা।