রাজধানীর বাতাসে ‘বিষ’। ‘গ্যাস চেম্বার’ দিল্লি।
ভারতের বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের দুটি পৃথক সংবাদে গতকাল এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে দেশটির রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণের পরিস্থিতিকে।
দিনের আলোতেও দিল্লি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। দূষণের মাত্রা চরমে উঠেছে, যেটাকে বলা হয় ‘সিভিয়ার প্লাস’। দিল্লিতে জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা মাথায় রেখে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে স্বাস্থ্যের অনুকূলে ধরা হয়। দিল্লির পাশের রাজ্যগুলোতে ফসল কাটা ও পরে পোড়ানো, দীপাবলিতে বাজি ফোটানো এবং তা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে গতকাল দিল্লিতে একিউআই ৫০০ ছাড়িয়েছে, যা ‘সিভিয়ার প্লাস’।
এমন অবস্থার মধ্যেই আগামীকাল বাংলাদেশ-ভারত টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। গতকাল অনুশীলনেও বাংলাদেশের ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেন, আবু হায়দার রনি, স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মাস্ক পরেছিলেন। যদিও অনুশীলন শেষে ডমিঙ্গো সাংবাদিকদের বলেছেন, দিল্লির পরিবেশ খেলার জন্য মোটেও আদর্শ নয়। তবে তাতে কেউ মারা যাবে না।
দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে গতকাল প্রোটিয়ার এই কোচ বলেছেন, ‘পরিস্থিতি খেলার জন্য মোটেও আদর্শ নয়। এটা মাত্র তিন ঘণ্টার বিষয়। হয়তো ধোঁয়ায় চোখ জ্বলবে। শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হবে। মাস্ক ব্যবহার করা আবশ্যক হয়ে উঠছে। কেউ অবশ্য অসুস্থ হয়ে পড়েনি। কেউ মারাও যায়নি।’
বায়ুদূষণের এমন পরিবেশে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন নিয়ে অবশ্য অভিযোগ করছে না বাংলাদেশ। গতকাল ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘দূষণের মাত্রা খুবই বেশি। তবে আমরা নালিশ করছি না। দুটি দলকে একই পরিস্থিতির মধ্যে খেলতে হবে।’
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা দলও দিল্লিতে খেলতে গিয়ে বায়ুদূষণের কবলে পড়েছিল। তখন মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।
ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় : সৌরভ গাঙ্গুলি
দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। সেই আলোচনাকে আরো উচ্চকিত করেছে বাংলাদেশ-ভারত টি-২০ সিরিজ। এমন সময়ে দিল্লিতে ম্যাচ আয়োজনের সূচি তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। দিল্লি থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার আলোচনাও উঠেছে। যদিও বিসিসিআইয়ের নব্য সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন, শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আগামীকাল বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টি-২০ দিল্লিতেই হবে।
সংবাদমাধ্যমকে ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘এখন বিকল্প কিছু ভাবার সময় নেই। ম্যাচের ব্যাপারে অনেক ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। টিকিটও বিক্রি হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে দিল্লিতে ম্যাচ বাতিল করা সম্ভব নয়। দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা এই ম্যাচ চালিয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। দীপাবলির পর দিল্লিতে ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন। যদিও এখন সেটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।’
