কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় জেএসি ও জেডিসি পরীক্ষার জন্য দুই হাজার ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। শনিবার শুরু হওয়া পরীক্ষায় ৬৪ জন ছিলো অনুপস্থিত। এদের মধ্যে ৫১ জন মেয়ে ও ১৩ জন ছেলে। মেয়েদের মধ্যে ৫১ জনেরই বাল্যবিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা পরীক্ষা দিচ্ছে না। ১৩ জন ছেলে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজে থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও মাদ্রাসার সুপার সঙ্গে কথা বলে ওই তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জারুইতলা ইউনিয়ন রসুলপুর হানিফ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইজন, দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একজন, নিকলী শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়জন, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের তিনজন, করগাঁও ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন, রোদারপুড্ডা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন, এবি নুরজাহান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দুইজন ও সিংপুর আফিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রী বাল্যবিবাহের কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
মোহরকোনা আশরাফিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. মাহবুব রহমান জানান, জেডিসি পরীক্ষায় ১৪ মেয়ে অনুপস্থিত। এই মেয়েগুলো বাল্যবিয়ের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
আরো পড়ুন: নতুন আইনে প্রথম সাতদিন মামলা হবে না: সেতুমন্ত্রী
ছাতিচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের পাঁচজন ছাত্রী কয়েকমাস আগে বাল্যবিবাহ হওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
নিকলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান হাবিব বলেন, অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে অকালেই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। বিষয়টি আমাকে খুব বিব্রত করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আস আদ দীনমাহমুদ বলেন , ওই ছাত্রীরা শুধু লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়েনি। কেউ কেউ অল্প বয়সে মা হয়েও অকালে পৃথীবী থেকেও ঝরে পড়বে।
নিকলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফসিয়া সিরাত মুঠোফোনে জানান, বাল্যবিয়েগুলো গোপনে হয়েছে। কেউ প্রসাশনকে জানালে অবশ্যই ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করা হতো। পূর্বেও আমরা প্রশাসনের উদ্যোগে এ রকম অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি। পরীক্ষার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে ও এর কুফল সম্পর্কে একটি সমাবেশ করবো।
ইত্তেফাক/বিএএফ
