আমি বোকা নই

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০২

 রুবেল কান্তি নাথ

 

আচমকা দু পাশ থেকে চার-পাঁচজন অচেনা লোক এসে আমাকে এলোপাথারি মারতে শুরু করল। আর বলতে লাগল, ‘জামাইল্যা, তুই আমাগো বহুত ক্ষতি করছস। আইজ খাইছি তোরে।’

আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে হঠাত্ বৃষ্টির মতো হাওয়া হয়ে গেল ওরা। আর আমি খুশিতে বগল বাজাতে লাগলাম। কারণ আমার নাম ‘জামাইল্যা’ না। জামাইল্যা আমার জানি দুশমন। দুইজনের চেহারা একইরকম হওয়াতেই এই মুসিবত।

আমার নাম আসলে কামাইল্যা। জামাইল্যার প্রতি আমারও অনেক রাগ ছিল। ইচ্ছে করত ওকে মেরে হালুয়া টাইট করে দিই। আমার খায়েশটা ইতিমধ্যে পূরণ করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। মানে, জামাইল্যা মনে করে আমাকে প্যাঁদিয়ে আধমরা করে ফেলেছে। আরেকটু হলেই ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যেত। তবুও আমি ওদের বলিনি যে, আমার নাম কামাইল্যা।

যেহেতু জামাইল্যা আমার শত্রু। সেহেতু ওরা তো আমাকে নয়, একহিসাবে জামাইল্যার ওপরই প্রতিশোধ নিয়েছে। এতে করে তাকে ধোলাইয়ের ইচ্ছেটাও আমার মিটে গেছে।

আপনারা ভাবছেন, ‘আমি বোকা। উঁহু, আমি বোকা নই। বোকা হলে কি আর চিরশত্রু একজনের ওপর এভাবে প্রতিশোধ নিতে পারি!’

 

২.

সেদিন বাজারে গেলাম। কয়েক ধরনের সবজি কেনার পর গেলাম বেগুন কিনতে। বেগুন ভাজি খেতে আমার আবার খুব ভালো লাগে। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত দিয়ে গোল গোল করে কাটা বেগুন ভাজি। আহা, ভাবতেই জিভে জল এসে যাচ্ছে।

বেগুনওয়ালাকে বললাম, ‘এইখানে কোনো পঁচা ও পোকায় খাওয়া বেগুন নাই তো?’

সে বলল, ‘আমি কসম কইরা কইতাছি, এইহানে কোনো পচা বা পোকায় কাটা বেগুন নাই।’

এই ঘোর কলি যুগে যে মিথ্যা কথা বলে না বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে, সে-ই আসলে প্রকৃত মিথ্যাবাদী। আমি বুঝতে পারছি, এই বেটাও সেই দলভুক্ত।

সেহেতু ওকে বললাম, ‘ভাই, এইসব বাখোয়াজ না করে পচা ও পোকায় কাটা বেগুনগুলা জলদি আলাদা করেন।’

বেচারা কী বুঝল, কে জানে, তড়িঘড়ি কাজে লেগে পড়ল। কিছুক্ষণ পর দেখি, এক-তৃতীয়াংশ বেগুনই আবর্জনা গ্রুপে সুন্দরী কমলার মতো কোমর দুলিয়ে নাচতে-নাচতে জয়েন করে ফেলেছে!

বাদ বাকি একাংশ ভালো বেগুনের মাঝ থেকে ওকে বললাম, ‘হাঁফ কেজি বেগুন দিতে। বেটা আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি হেনে এমনভাবে তাকাল, মনে হলো; টমেটো সস ছাড়াই আমাকে গিলে খেয়ে ফেলবে!’

কিন্তু শেষপর্যন্ত ওকে দিতেই হলো। না দিলে বাজার তদারক কমিটির মার একটাও ওর পিঠে ছাড়া মাটিতে পড়ত কিনা সন্দেহ!

এই বিরাট অসাধ্য সাধন করার পরও কি আমাকে বোকা মনে করছেন?

করেন। করেন। বোকা তো আর গাছে ধরে না! বোকারাই আমার মতো জ্ঞানীদের বোকা মনে করে। আমি তো আর জ্ঞানী নই থুড়ি, বোকা নই!

 

৩.

‘ভাই, ও ভাই, বাড়িতে আছেন?’

দরজা খুলেই দেখি নির্বাচন প্রার্থী একজন দরজায় দাঁড়িয়ে। ব্যাটা এলাকায় প্রসিদ্ধ চোর নামে খ্যাত। নির্বাচনের মৌসুম কাজে লাগিয়ে ডাকাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাচ্ছে। ওকে এভাবে ভিখিরির মতো অবেলায় দরজা ধাক্কাতে দেখে আমার বড়ই মায়া হলো। চোর হোক আর ডাকাত, (অ)মানুষ বলে কথা! ভেতর থেকে এক গ্লাস পানি এনে তাকে খেতে দিলাম। সঙ্গে মুড়ি-চানাচুরও দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওসব খেলে নাকি ঘনঘন বায়ুত্যাগের বেগ বাড়ে।

ভবিষ্যত নেতা এখন যাচ্ছে জনগণের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে। এখনই যদি প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে বায়ুত্যাগ করে আসে, তাহলে আগামী নির্বাচনে তার পরাজয় ঠেকায় কার বাপের সাধ্যি!

ও ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বলে আমার কাছে ভোট ভিক্ষা চাইল। আমি অমুক-তমুক বলে তাকে বিদায় করলাম।

এধরনের কাকুতি-মিনতিতে আমি আপনাদের মতো গলে যাই না। আমি জানি, এই পাবলিক আমার নেতা হওয়ার যোগ্য নয়।

এইসব অযোগ্য ব্যক্তিকে আমি ভোট দিই না। কারণ আমি আপনাদের মতো বোকা নই।   g