গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাঁবু টানিয়ে, কখনও খোলা আকাশের নিচে। দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকেরা এসে পড়েছেন নানা ভোগান্তিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছরের প্রথম দুই দিনের অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ক্লাসরুম সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদেরকে গ্যারেজে, তাঁবুর নিচে কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে পরীক্ষা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি না করে প্রতি বছরে আসন সংখ্যা বৃদ্ধিকেই সংকট হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে কোটাসহ আসন সংখ্যা ছিলো প্রায় ৪৫০টি। যা বর্তমানে তিন হাজারের উপরে দাঁড়িয়েছে। ফলে গত পাঁচ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ২০০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারে। এদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করেই ক্রমাগত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করায় প্রতিবছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে অধিকাংশই ভোগান্তির শিকার হয়।

খোলা আকাশের নিচে বসে পরীক্ষা। ছবি: ইত্তেফাক
নেত্রকোনা থেকে মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন মিরন সাহা নামের এক অভিভাবক। তিনি বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। মেয়েকে কোনভাবে হলে রেখেছি। কিন্তু আমি কোথাও থাকার জায়গা পাইনি। রাতে বাসের নিচে পত্রিকা পেতে ঘুমিয়েছি। তবে মেয়েকে একটু নিরাপদে রাখতে পেরে ভালো লাগছে। আমি ছাড়া এরকম আরো অনেকে বাসের নিচে ঘুমিয়েছে। তাছাড়া হোটেলগুলোতে খুবই নিম্নমানের খাবার আর দামও অনেক বেশি, নেই পর্যাপ্ত পরিবহন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ক্যাম্পাসে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।
আসন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন নিজের ইচ্ছা মতো একের পর এক বিভাগ চালু করেছেন, আমরা একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এটা করেছেন। ফলে এখন বিভিন্ন ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
