গৃহস্থালি কাজকে গুরুত্ব দিলে সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৫

 ‘ভিন্ন রূপে পুরুষ’—শীর্ষক প্রদর্শনী

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারী সারাদিন ঘরের কাজ করলেও অধিকাংশ সময়ই পরিবারে এবং সমাজে তার কোনো স্বীকৃতি নেই। ‘ঘরের কাজ যে শুধু নারীর একার দায়িত্ব’— সমাজে পুরুষদের এ ধারণা এখনো প্রচলিত। সরকারি নীতিতে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজকে গুরুত্ব দিলে সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর তাই সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এ বিষয়টিতে বিশেষ জোর দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। গতকাল শনিবার সকালে ‘শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘ভিন্ন রূপে পুরুষ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। একশন এইড বাংলাদেশ এবং দৃক গ্যালারি যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নারী বিশাল পরিসরে যে কাজ করেন তা মূল্যায়ন করা কঠিন হলেও অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। নারীর বিরুদ্ধে অন্যায়-অত্যাচার প্রতিরোধে তার যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। নারী-পুরুষ উভয়েই মিলেমিশে যদি ঘরের কাজগুলো ভাগ করে নেন তবে তা পরিবারে ও সমাজে শান্তি নিশ্চিতে সাহায্য করবে। তিনি আরো বলেন, গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে নারীর স্বীকৃতির পাশাপাশি পুনর্বণ্টন ও হ্রাসে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, সরকারি নীতিমালায় যদি গৃহস্থালির সেবামূলক কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে ইউনিয়ন পর্যায়েও নারীর জন্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরাও যাতে ঘরের কাজের পাশাপাশি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন সেজন্য সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে প্রয়োজনে সরকারি নীতিমালাতেও, বিশেষ করে সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ নিয়ে গবেষণার বিশেষ দিকগুলো উপস্থাপন করেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা। তিনি বলেন, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের মোট ১০টি ইউনিয়নে ২০১৮ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে দৈনিক প্রায় ৭ ঘণ্টা ব্যয় করে। অপরদিকে পুরুষরা ব্যয় করে ৩ ঘণ্টারও কম। এক্ষেত্রে ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে নারী-পুরুষ সকলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এই প্রদর্শনী সেক্ষেত্রে একটি চমত্কার উদ্যোগ। নারীর সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। যুব সমাজকে এ ইস্যুতে সম্পৃক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানান নারী কৃষক বিথী বেগম। প্রতিযোগিতার নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন আলোকচিত্র নির্বাচনী কমিটির অন্যতম সদস্য আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পান যথাক্রমে আলোকচিত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ফারহানা আক্তার ও শাহ নেওয়াজ সৈকত। এছাড়া বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পান আরো সাত জন। 

গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত আলোকচিত্র ও ফটোস্টোরিগুলো নিয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যার অন্যতম উদ্দেশ্য সমাজের পুরুষ সদস্যদের গৃহস্থালির সেবামূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণে উত্সাহিত করা। চলতি মাসের ২ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিজয়ীদের ছবিগুলো বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়েছে রিকশা ক্যারাভান যা আগামী তিন দিন ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াবে।