১৭ বছরেও এমপিও না হওয়ায় হতাশ শিক্ষক-কর্মচারীরা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৭

১৭ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এক মাত্র মহিলা কলেজের ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সর্বশেষ এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিজেদের কলেজের নাম দেখবেন এমনটাই আশা ছিল শিক্ষক-কর্মচারীদের। কিন্তু সর্বশেষ তালিকায় কলেজের নাম না থাকায় প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। 

সরজমিনে গিয়ে কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে এক একর ১০ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কলেজটিতে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও অধ্যয়নরত ৬ শতাধিক ছাত্রী রয়েছে। উপজেলার মধ্যে এটিই এক মাত্র মহিলা কলেজ। ২০০৪ সাল থেকে ছাত্রীরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। পরীক্ষার ফলাফলে একাধিক জিপিএ-৫সহ পাসের হারও সন্তোষজনক। শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী নারী শিক্ষার অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় অন্তত একটি করে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার বিধান থাকলেও বার বার আবেদন করলেও গত ১৭ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি এ কলেজটি। ফলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে।

কলেজের প্রভাষক মাজহারুল আনোয়ার টিটুসহ কয়েকজন জানান, এমপিওভুক্তির আশায় প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে শিক্ষক কর্মচারীরা নামমাত্র সম্মানিতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এই কলেজটি সকল যোগ্যতা অর্জন করার পরও সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসের এমপিওভুক্তির তালিকায় স্থান না পাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হতাশ হয়ে পড়েছেন। বর্তমান সরকারের ঘোষিত নীতিমালা অনুসারে কলেজটি পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও নারী শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়াতে ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবকদের ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। 

রায়পুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উম্মে হানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। বিশেষ করে নারী শিক্ষার উন্নয়নে এই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমপিওভুক্তির তালিকায় এই কলেজের নাম না থাকায় আমরা চরম হতাশায় আছি। তাই দ্রুত রায়পুর উপজেলার নারী শিক্ষার একমাত্র উচ্চ বিদ্যাপীঠ রায়পুর মহিলা কলেজটিকে এমপিওভূক্ত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ