আতাউর রহমান
অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় রেলপথই মানুষের শেষ ভরসা। তবে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যথসময়ে চলাচল করলেও যাত্রীসেবার মান, ট্রেনে হিজড়াদের দাপট, ছিনতাই, টিকেটবিহীন যাত্রীসহ নানাবিধ সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। এর মূল কারণ হিসেবে বলতে হয়—ট্রেনের বগিগুলোতে কর্তৃপক্ষীয় দেখভালের ব্যবস্থা না-থাকা। এসব দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বলা হয় পরিচর্যক (অ্যাটেনডেন্ট)। পরিচর্যক সংকটে প্রতিদিন ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ আনসার বাহিনী না-থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের পরিচর্যক সংকটে যাত্রীরা নানামুখী হয়রানির শিকার। একটি ট্রেনে প্রায় ১৫টি বগির প্রত্যেকটিতে একজন করে পরিচর্যক থাকার কথা থাকলেও দায়িত্বে রয়েছেন দুই-চার জন। যার ফলে যাত্রীরা ট্রেনে ওঠানামায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। একইসঙ্গে বিনা টিকেটে অনেক যাত্রী ওঠানামা করছেন। মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থ যাত্রীদের রেলওয়ের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান না-করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সম্প্রতি ট্রেনে ভ্রমণকালে পাশের আসনে বসা রেলওয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বললেন, পূর্বাঞ্চলে কিছু ট্রেন অনবোর্ড সার্ভিসে সেবা দিলেও পঞ্চিমাঞ্চলে অনবোর্ড সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে না। ১৫ বগির একটি ট্রেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ডাবল শিফটে ১৫ জন করে পরিচর্যক প্রয়োজন। সব মিলিয়ে ১ জন পরিচর্যকের মজুরি দাঁড়ায় ৬৬ হাজার টাকা। পক্ষান্তরে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে একজন পরিচর্যকের ব্যয় হয় মাত্র ১৩ হাজার টাকা। তিনি বলেন, সরকারি পরিচর্যক দ্বারা ১৫ বগির ১টি ট্রেন পরিচালনা করতে ব্যয় হয় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা, পক্ষান্তরে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে খরচ হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। তাই সরকারিভাবে পরিচর্যক নিয়োগ করা হচ্ছে না। পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে মোট ৪৯টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে বলে তিনি জানান। পাশের আসনে বসা আরেকজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অনবোর্ড সার্ভিস দিলে সরকার লাভবান হতো। আর পর্যাপ্ত পরিচর্যক থাকলে যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক হতো।
দেখার কেউ না থাকায় ট্রেনে প্রতিদিনই হিজড়া ও ফেরিওয়ালাদের দাপটে শত শত যাত্রীকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। ট্রেন ছাড়ার পর শুরু হয় ফেরিওয়ালাদের উপদ্রব। সেইসঙ্গে রয়েছে ফকিরের উপদ্রব। ফকিরেরা সাহায্যের জন্য বিভিন্ন সুরে উচ্চ আওয়াজে যাত্রীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। এছাড়া ৫/৬ জনের হিজড়ার দল ট্রেনে ওঠে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে। টাকা না দিলে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে অর্থ দিয়ে তাদের বিদায় করে। দেখভালের জন্য পর্যাপ্ত পরিচর্যক থাকলে যাত্রীদের এমন অবস্থায় পড়তে হতোনা। তাই অবিলম্বে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সরকারিভাবে পরিচর্যক নিয়োগ না দিলেও আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যক নিয়োগ দিয়ে যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ঢাকা
