নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২২

মুন্নাফ হোসেন

 

শিক্ষার মূল সোপান হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। যদিও লেখাপড়ার হাতেখড়ি পরিবারে, তবু প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে মূলভিত্তি। শিকড় থেকে শিখরে উঠতে হলে প্রথমে শিকড়কে মজবুত করতে হবে। শিকড় যদি ভালোভাবে বিস্তার লাভ করে, তবেই শিখরে ওঠা যায়। প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকার যুগোপযোগী করতে চেষ্টা করলেও বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক বৈষম্য বিদ্যমান। বৈষম্যের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি পরীক্ষা নেওয়া হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে। অথচ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাচ্ছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা সৃজনশীল বিষয়ে সঠিক জ্ঞান পাচ্ছে না। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ডবি­উএইচ প্রশ্ন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভীতি সৃষ্টি করছে। কেননা এ বিষয়টি স্নাতক পর্যায়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে সমস্যা হতো না।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য শিক্ষকদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে। উন্নত বিশ্বে শিক্ষকদের উচ্চবেতন ও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়, অথচ আমাদের দেশে সম্মানীত শিক্ষকগণ এখনো সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। সমপ্রতি প্রধানশিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, অথচ এখনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। প্রধানশিক্ষকদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়া জরুরি। কেননা প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করতে একজন প্রধানশিক্ষককে অনেক কষ্ট করতে হয়। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন প্রধানশিক্ষকদের পরেই গ্রেডেই প্রাপ্য। কেননা শিক্ষক যদি হয় ১৫তম গ্রেডের কর্মচারী, তা জাতির জন্যও লজ্জার। তাই বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে। তাই তাদের চাকরি জাতীয়করণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। অনেক অভিভাবক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার সন্তানকে না দিয়ে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করান। এর জন্য দায়ী হাতেগোনা কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কেননা তাঁরা ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগী নন। এমন শিক্ষকদের সঠিকপথে আনতে নিয়মিত ক্লাস মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে যে তাঁরা শিক্ষক। তবেই প্রাথমিক শিক্ষা হবে যুগোপযোগী। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এখনো পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক বিদ্যালয়ে এখনো একাডেমিক বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়নি যা অত্যন্ত জরুরি। তাই রাজনৈনিক দলগুলোর প্রতি বিনীত অনুরোধ এই যে প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করুন।

টাঙ্গাইল