সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে সেতুবন্ধ গড়ছেন যিনি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৩

এম এ আলআমিন

 

প্রিন্সেস রিমা বিনত বান্দার আল সাউদ, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছেন আগস্টে। আগস্টের কোনো এক শুক্রবার সকালে তিনি ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসের স্টাফদের সঙ্গে পরিচিত হন। দূতাবাসের লবি এ সময়ে স্টাফদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। লবিটি সাধারণত নির্জনই থাকে। কালেভদ্রে জায়গাটি কোলাহলমুখর হয়ে ওঠে। প্রিন্সেস রিমাকে স্বাগত জানাতে আসা স্টাফদের মধ্যে জনা পঞ্চাশেক নারীও ছিলেন। এ সময় রিমার পরনে ছিল প্যান্ট এবং সাদাকালো জ্যাকেট। প্রথামাফিক হেড স্কার্ফ ছিল না, যদিও তার সঙ্গে কয়েকজন পুরুষ স্টাফ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি নারীদের, আজ আমাদের উদযাপন করার দিন’। ঐ দিন সৌদি সরকার নারীদের জন্য পুরুষ অভিভাবকত্বের নিয়ম শিথিল করে।

প্রিন্সেস রিমা নারী স্টাফদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের এমন অনেক অধিকার আছে যেগুলো চাইলেই কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না...’। তিনি তাদের অধিকারের পাশাপাশি  স্বপ্নের কথাও বলেন। তিনি তাদের একথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে অধিকারের সঙ্গে দায়িত্বের সম্পর্ক রয়েছে। রিমা কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং বহির্বিশ্বে কোনো দেশে নিয়োগ পাওয়া তার দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত। তার পিতা প্রিন্স বন্দর বিন আব্দুল আযিয ১৯৮৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সৌদির রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এ কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শৈশব ও কৈশোরের একটি বড়ো সময় পার করেছেন। তিনি জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) নিজের ভাই খালেদ বিন সালমানকে সরিয়ে রিমাকে ঐ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এমবিএসকে সৌদির কার্যত শাসক গণ্য করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে রক্ষণশীল দেশটিকে আধুনিকতার যে ধারা এমবিএস সূচনা করতে চলেছেন প্রিন্সেস রিমা তারই এক প্রতিচ্ছবি।

৪৪ বছর বয়সি  প্রিন্সেস রিমা যদিও একজন সংস্কারমনা নারী এবং দীর্ঘকাল কূটনৈতিক পদে থাকা এক ব্যক্তির সন্তান কিন্তু তিনি রিয়াদ-ওয়াশিংটন সম্পর্কে সত্যিকার অর্থে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবেন তা বলা কঠিন। তিনি এমন এক সময় আমেরিকায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন যখন দেশ দুটোর মধ্যে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে টানাপোড়েন চলছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ইয়েমেন সামরিক অভিযান যার ফলে সেখানে ব্যাপক মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বিদের নির্বিচার আটক ও গুম হওয়া এবং বহুল আলোচিত ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলামিস্ট জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড রিয়াদ ওয়াশিংটন সম্পর্কে অবিশ্বাসের ছায়া ফেলেছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ল সেন্টারের প্রফেসর এবং মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের সাবেক সিইও এলিসা মাসিমিনো বলছেন, ‘প্রিন্সেস রিমা এমন এক সময় এই দায়িত্ব নিয়েছেন যেটি যে কোনো রাষ্ট্রদূতের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। তিনি মনে করেন যে, এক্ষেত্রে খাশোগিই একমাত্র ইস্যু নয়। বরং মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলই এখন সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রিন্সেস রিমা নারীর অধিকার ও তাদের স্বপ্নের কথা বলছেন কিন্তু অধিকার গ্রুপের সঙ্গে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা তার নেই। কূটনৈতিক পর্যায়েও তিনি কোনো সুপরিচিত ব্যক্তি নন। তিনি কি কেবল এমবিএসের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণ করার জন্য ঐ পদে অভিষিক্ত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। সৌদি আরবেও স্বাধীন মত প্রকাশ করতে গিয়ে বহু নারী অধিকারকর্মী আটক হয়েছেন এ সম্পর্কে প্রিন্সেস রিমা কিছুই বলছেন না। সেপ্টেম্বরে দূতাবাসের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের যার যার মত প্রকাশের অধিকার আছে। আমি চাই আমাকে আমার কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করা হোক।’