স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে
ক্লাইভ লয়েড তাকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। স্টুয়ার্ট ল তখন বলেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরবর্তী ‘বড় তারকা’ ক্রিকেটাঙ্গনে পা রাখতে চলেছেন। মাত্র ১৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ছেলেটিকে নিয়ে এত উচ্ছ্বাসের কারণ তখন বোঝা যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটা বোঝা গেল। হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঐতিহাসিক এক জয় এনে দেওয়ার পথে জোড়া সেঞ্চুরি করলেন সেই তরুণ। লোকেরা এবার বুঝলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সত্যিই পরবর্তী তারকা হতে এসেছেন শাই হোপ।
হেডিংলিতে ৩৩২ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতানোটা নিশ্চয়ই হোপের ক্যারিয়ারের বিজ্ঞাপন ছিল। টেস্টে অবশ্য এরপর এখনো সেই ধারাবাহিকতায় আর খুব বেশি কিছু করে উঠতে পারেননি। কিন্তু ওয়ানডেতে এবার নিজেকে চেনাতে শুরু করেছেন। হোপের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের সাথে টাই হয়েছিল ম্যাচ। কয়েক দিন আগে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে আবারো দলকে ‘টাই’ এনে দিতে পেরেছিলেন। এরপর মিরপুরে এক অতিমানবীয় সেঞ্চুরি করে একাই জেতালেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। হোপের এক ‘ওয়ান ম্যান শো’ সিলেটের জন্যও জমা ছিল। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চরম বিপর্যয়ের মধ্যে আরও একবার ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ালেন হোপ। এক সেঞ্চুরি করে মান বাঁচালেন ক্যারিবীয়দের।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল বলছিলেন, হোপের ওপর রোজ ভরসা করা ঠিক হবে না। বাকি ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, হোপ রোজ জ্বলে উঠতে পারবেন না। কিন্তু কথাটা বাকি ব্যাটসম্যানরা শুনেছেন বলে মনে হলো না। বরং হোপই কথাটা ‘মিথ্যে’ প্রমাণ করলেন। তিনি আবারো জ্বলে ওঠার দায়িত্ব নিলেন।
মিরপুরে হোপের ইনিংসটা ছিল একটা আদর্শ ওয়ানডে ইনিংসের উদাহরণ। উইকেটে আসার পরপরই এই ওপেনার দেখেছিলেন সতীর্থ ওপেনারের ফিরে যাওয়া। এরপর ছোট ছোট জুটি করে এগিয়েছেন। মাঝের সময়টা রানের চাকা ঘুরিয়েছেন, একা ধরে রেখেছেন ইনিংস। আর শেষ সময়ে গিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে দলকে ম্যাচ জিতিয়েছেন।
সে তুলনায় সিলেটের ইনিংসটা ছিল একেবারেই দেয়াল তুলে ধরা এক ইনিংস। বাংলাদেশি বোলারদের সামনে আত্মসমর্পণ করে বসতে থাকেন ক্যারিবিয় সব ব্যাটসম্যানরা। প্রতিরোধ গড়ার জন্য কোনো সঙ্গী পাননি হোপ। সেখানেই পাল্টা স্রোতে দাঁড়িয়ে একা লড়াই করেছেন। ইনিংস শুরু করতে এসে শেষ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত চলেছে হোপের লড়াই। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় সাজিয়ে ১০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। সঙ্গীর অভাবে এদিন আর পাল্টা আক্রমণ করতে পারলেন না। তবে নিজেকে চেনাতে ভুল করেননি।
