বিসিএল
স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চতুর্থ রাউন্ডে জয় পেয়েছে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলকে সাত উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। বিসিএলের চলমান আসরে দলটির এটি প্রথম জয়। তারপরও চার রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে মধ্যাঞ্চল (১৭.৯৩)। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণাঞ্চল (১৭.৬৩)।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে গতকাল ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল-বিসিবি উত্তরাঞ্চলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে। নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিনে মুমিনুল হক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি করেছেন। তবে ছয় রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৯৪ রানে আউট হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই ফিরেছেন তিনি। চলতি বছরে টেস্টেও চারটি সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল।
চট্টগ্রামে গতকাল শেষ পাঁচ উইকেটে ৮৯ রান যোগ করতে পেরেছিল মধ্যাঞ্চল। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬৯ রানে অলআউট হয় দলটি। অধিনায়ক শুভাগত হোম ৭১, জাকের আলী ৩১, আরাফাত সানি অপরাজিত ২৪ রান করেন। দক্ষিণাঞ্চলের মেহেদী হাসান ও কামরুল ইসলাম রাব্বি চারটি করে, আল-আমিন হোসেন ও রাজ্জাক একটি করে উইকেট পান। জয়ের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের টার্গেট দাঁড়ায় ১৩৪ রান। এনামুল হক বিজয়ের হাফ সেঞ্চুরিতে ৩২.২ ওভারে তিন উইকেটে ১৩৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণাঞ্চল। বিজয় অপরাজিত ৮৬, তুষার ইমরান অপরাজিত ১৫, আল-আমিন জুনিয়র ১৯ রান করেন। মধ্যাঞ্চলের শুভাগত দুটি, তাইবুর রহমান একটি করে উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মেহেদী হাসান ম্যাচ সেরা হন।
রাজশাহীতে গতকাল আরো দুই উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান যোগ করে পূর্বাঞ্চল। চার উইকেটে ৩৬২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দলটি। তৃতীয় উইকেটে ২০৭ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মুমিনুল হক ও মাহমুদুল হাসান। মুমিনুলের ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষাতেই ইনিংস ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব করেছিল পূর্বাঞ্চল। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৯৪ রানে তানবির হায়দারের বলে এবাদতের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এই ইনিংস খেলতে মুমিনুল খেলেছেন মাত্র ১৯০ বল, যেখানে ২৩টি চার ও তিনটি ছক্কা ছিল। মাহমুদুল হাসান ৮৩, আশরাফুল অপরাজিত ১৯ রান করেন। উত্তরাঞ্চলের সানজামুল তিনটি, তানবির হায়দার একটি করে উইকেট পান।
জয়ের জন্য ৪৫২ রানের টার্গেট তাড়ার সময় পায়নি উত্তরাঞ্চল। ১৬ ওভারে তারা এক উইকেটে ১১৬ রান তুলতেই ম্যাচ ড্র মেনে নেয় দুদল। তবে ঝড়ো ব্যাটিং করেছেন উত্তরাঞ্চলের ব্যাটসম্যানরা। জুনায়েদ সিদ্দিকী ৪৬ বলে অপরাজিত ৫১, ফরহাদ হোসেন ২৮ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলামের (১৫) উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। পূর্বাঞ্চলের ওপেনার রনি তালুকদার ম্যাচ সেরা হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল-প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল
মধ্যাঞ্চল: ২৬১ ও ২৬৯, ১০৬.৩ ওভার (শুভাগত হোম ৭১, জাকের আলী ৩১, মোশাররফ ১২, আরাফাত সানি ২৪*; কামরুল ইসলাম রাব্বি ৪/৫৯, মেহেদী হাসান ৪/৬৩, আল-আমিন হোসেন ১/৩৯, রাজ্জাক ১/৮৭)
দক্ষিণাঞ্চল: ৩৯৭ ও১৩৪/৩, ৩২.২ ওভার (বিজয় ৮৬*, আল-আমিন জুনিয়র ১৯, তুষার ইমরান ১৫*; শুভাগত হোম ২/২১, তাইবুর রহমান ১/১৫)
ফল: প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল সাত উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান (দক্ষিণাঞ্চল)
ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল-বিসিবি উত্তরাঞ্চল
পূর্বাঞ্চল: ৪৬৬ ও ৩৬২/৪ ডি., ৭৫.৩ ওভার (মুমিনুল হক ১৯৪, মাহমুদুল হাসান ৮৩, আশরাফুল ১৯*; সানজামুল ৩/১২২, তানবির হায়দার ১/২৮)
উত্তরাঞ্চল: ৩৭৭ ও ১১৬/১, ১৬ ওভার (জুনায়েদ ৫১*, ফরহাদ হোসেন ৫০*, জহুরুল ১৫; তাইজুল ১/৩৩)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যাচ সেরা: রনি তালুকদার (পূর্বাঞ্চল)
