ঋণ পুনঃ তপশিলিকরণ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। ঋণখেলাপিদের এ-সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা দিয়ে জারিকৃত সার্কুলারের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। বিশেষ সুবিধা-সংক্রান্ত ঐ সার্কুলারের মেয়াদ আরো ৯০ দিন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলা হয়েছে।
আদালত বলেছে, যারা এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবেন, তাদের নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের ১৫ নম্বর সার্কুলারে যে বিধান রয়েছে, সেটা অনুসরণ করবে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে গতকাল রবিবার এ রায় দেন।
আদালত বলেছে, ‘আমরা মনে করি, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হার ডাবল ডিজিট থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা উচিত।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐ সার্কুলারে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃ তপশিল করতে পারবেন। পুনঃ তপশিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। এক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। হাইকোর্টের রায়ে ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করতে এবং সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করতে হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে যারা বিশেষজ্ঞ, তাদের এই কমিটিতে রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুরবস্থা নিরসনে ঐ কমিটির দেওয়া সুপারিশ ও নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পাঁচ পদে নিয়োগের বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে রিট আবেদনে কমিশন গঠনের যে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল, তা গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট অনুসারে এ ধরনের কমিশন গঠনের এখতিয়ার সরকারের।
ব্যাংক খাতে অর্থ আত্মসাত্, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সুদ মওকুফ-সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তিন দফা নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করে। ঐ রুলের শুনানিকালে গত ১৬ মে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২১ মে হাইকোর্ট ঐ প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে রুল শুনানির জন্য পক্ষগণকে নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশের পরই হাইকোর্ট মামলাটির ওপর দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ করে।
শুনানিকালে দাখিলকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের হলফনামায় বলা হয়, খেলাপি ঋণ পুনঃ তপশিল করা না হলে ঋণগ্রহীতাদের শিল্প, কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়বেন। হ্রাস পাবে দেশের উত্পাদন এবং অচল হবে অর্থনীতির চাকা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেই বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
রায় ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি, এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে শাহ মঞ্জুরুল হক ও রিটকারীর পক্ষে মনজিল মোরসেদ উপস্থিত ছিলেন।
