বিবিসি
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ক্রিসমাস মার্কেটের কাছে সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্ট্রাসবুর্গের রাস্তায় পুলিশের একটি ইউনিটের সঙ্গে গোলাগুলির এক পর্যায়ে ২৯ বছর বয়সী শেইফ শিকাতের মৃত্যু হয়। এ বন্দুকধারীই প্রথম পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে ছিল বলেও জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার প্লেস ক্লিভের ক্রিসমাস মার্কেটের কাছে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্দেহভাজন এ যুবককে ধরতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শত শত সদস্যের অভিযান চলছিল। শিকাতের বিরুদ্ধে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিতে চুরিসহ বেশকিছু ছোটখাট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। জেলে থাকা অবস্থাতেই তিনি উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফরাসি সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌঁসুলি রেমি হেইত্জ জানান, মঙ্গলবারের হামলার সময়ও এ যুবক ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিত্কার করেছিলেন। বন্দুক ও ছুরি হাতে থাকা শিকাত পরে এক ট্যাক্সিচালককে জিম্মি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও একদফা গোলাগুলি হয় তার। সেসময় তার বাহুতে গুলি লাগে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। শিকাতের নির্দেশে ট্যাক্সিচালক পরে তাকে ন্যুডর্ফ থানার কাছে নামিয়ে দিলে সেখানে পুলিশের দিকে গুলি ছুড়ে ফের পালান এ যুবক। ন্যুডর্ফে তার অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি গ্রেনেড, একটি রাইফেল, চারটি ছুরি ও গোলাবারুদের সন্ধান পায়।
জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরিচালিত বার্তা সংস্থা আমাকে পরে শিকাতকে ‘আইএসের সৈনিক’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়। সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়া দেশগুলোতে পাল্টা হামলার নির্দেশেই শিকাত ওই ঘটনা ঘটান বলেও দাবি তাদের। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী খ্রিস্তোফ কাস্তেনেয়ার জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ন্যুডর্ফ এলাকার রু দো লাজারে সড়কে শিকাতের মতো এক যুবককে দেখতে পেয়ে তিন পুলিশ তাকে থামতে বলে। তাত্ক্ষণিকভাবে ওই যুবক গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। বৃহস্পতিবার সকালেও পুলিশ ন্যুডর্ফে অভিযান চালায়। যদিও তাতে ফল পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবারের হামলার পর পুলিশ শিকাতের বাবা-মা ও দুই ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তারও করে।
