ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের একটি কয়লার খনিতে আটকা পড়ে ১৩ জন মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ সূত্রে এ খবর জানা যায়। পরে শুক্রবার সরকারি কর্মকর্তারাও এ কথা জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, কয়লা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছিল। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব জেনশিয়ার সেইপাং থানায় লা লাইটিন নদী তীরে কেসানে এ ঘটনা ঘটে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার কেসান এলাকায় লুমথারি গ্রামের তিন বাসিন্দাসহ ১৩ জনের আটকা পড়ার কথা জানা গেছে। বন্যার কারণে তারা সেখানে আটকা পড়ে। পুলিশ কন্টিনজেন্ট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নিযুক্ত বাহিনী সেখানে যায়। তারা আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। তবে খনির অভ্যন্তরে বন্যার ফলে উদ্ধার কর্মীদের পক্ষে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে খনিতে কাজ করায় অভ্যস্ত স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে তাদের কোন সন্ধান বা যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় আশঙ্কা হচ্ছে যে তাদের জীবিতাবস্থায় খুঁজে পাওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, মেঘালয় ভারতের অন্যতম খনি সমৃদ্ধ এলাকা। প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন টন কয়লা সেখানে মজুত আছে। খনি কর্মীরা জানান, ভারতের পরিবেশ বিষয়ক আদালত ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রায়ই অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করা হয়। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে প্রদেশের দক্ষিণ গাঢ় পাহাড় এলাকায় অবৈধ কয়লা সংগ্রহ করতে গেলে প্রায় ১৫ জন কয়লা শ্রমিক আটকা পড়ে। তাদের মরদেহ কখনোই আর উদ্ধার করা যায়নি।
