ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘নগরনামা’ শিরোনামে বড় পরিসরে মাসব্যাপী প্রদর্শনী। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী এবং বিশিষ্ট স্থপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের পরিচালক কাজী খালেদ আশরাফ। এছাড়া বক্তব্য প্রদান করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি জালাল আহমেদ। আয়োজকেরা জানান, তাদের আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো হবে পরিবেশ নিয়ে। শহর-নগরের বিস্তার তার অন্যতম। আগামীর নগর-চরিত্র কেমন হবে? গ্রামগুলো পরিবর্তিত হয়ে কী রকম রূপ নেবে? গ্রাম ও নগরের মিলনে কী অন্য রকম জনপদ তৈরি হবে? নদী-নালা, খাল-বিল, জলাভূমি, ধানি জমি—এসব নিয়েই হবে নতুন জনপদ, নতুন নগরবিন্যাস। বাংলাদেশের অবারিত উর্বর জমি ও অন্যান্য জল-ভৌগোলিক উপাদানগুলো চিন্তা করলে এটা অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশই পৃথিবীকে দেখাতে পারে, এ বৈশিষ্ট্যগুলো মেনে, জল-আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কী রকম অভিনব ও মানবিক জনপদ নির্মাণ করা যায়। নদী-নালা, খাল-বিল শুধু নৈসর্গিক শোভা নয়, এগুলো ইকোলজিক্যাল সম্পদ; খাদ্য, পানি ও জীবনের সম্ভার। শহর ও জনপদ তো গড়বই, কিন্তু আমরা কি কৃষি ও জলাভূমি বিনষ্ট করে নাগরিক হব? নতুন নগর রচিত হবে নতুন জনপদ ইকোলজিক্যাল ও মানবিক ধারায়। নগরনামার পূর্বশর্ত জলজ পরিকল্পনা। তবে এ মুহূর্তে চারিদিকে শুষ্কতার জয়গান। শহর-নগর-বসতি তৈরি করতে গিয়ে শুষ্কতা, জল বিচ্ছিন্নতাকে মানদণ্ড মনে করে যা কিছু জলজ, তা আমরা অগ্রাহ্য করেছি। নির্বিচারে জলাভূমি ভরাট করে যেমন তেমন বাড়িঘর বানাচ্ছি। নদী ও খাল গ্রাস করে শিল্পায়নের স্বপ্ন আঁকছি। রীতিমতো প্রকৃতি ও প্রগতি যেন পরস্পর এক অমীমাংসিত দ্ব্বন্দ্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে। একদিকে উন্নয়ন ও প্রগতির ডামাডোল, অন্যদিকে প্রকৃতির নিয়ত বেড়ে চলার স্বভাব। এ দুইয়ের সহাবস্থান খুবই উপেক্ষিত। এগিয়ে যেতে হলে প্রকৃতিকে প্রগতির প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন এ দুইয়ের সন্নিবেশ। পানি ও পানির প্রবাহ ছাড়া বাংলাদেশে জীবনযাপন অসম্ভব। প্রাকৃতিক ছন্দের মাঝে আবার আবহাওয়া পরিবর্তনের জটিলতা জড়িত। প্রগতি, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন এ তিনের নতুন মোহনা, জীবনধারণ ও বসবাসের নতুনতর চিন্তাভাবনা ও রূপকল্প। উল্লেখ্য, বেঙ্গল ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহর নিয়ে গবেষণা করেছে এবং গবেষণালব্ধ, সুচিন্তিত বসবাসের প্রস্তাবনা ও উদাহরণ তৈরি করেছে। বিগত বছরগুলোতে বিভাগীয় শহরসহ বেশ কয়েকটি ছোট শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া দেশ ও বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরিচালনায় উচ্চমানের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে।
প্রদর্শনী স্থান :বেঙ্গল শিল্পালয়, কামরুল হাসান প্রদর্শনশালা, (প্রথমতলা), বাড়ি-৪২, রাস্তা-২৭, শেখ কামাল সরণি, ধানমন্ডি, ঢাকা।
সময় :প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা (রবিবার বন্ধ)।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
