জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ নিখোঁজ রয়েছেন ৩ বছর ৪ মাস ধরে। পুরো সময়টা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন পরিবারের সদস্যরা; কিন্তু সাজ্জাদের খোঁজ দিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এমন পরিস্থিতে স্বামীর সন্ধান চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাজ্জাদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া। সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সাজ্জাদের মা শাহিদা বেগম, মেয়ে সুমাইয়াসহ স্বজনরা।
জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট সাজ্জাদ নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে থানায় ডায়েরি করতে চাইলে আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতারা নিষেধ করেন। তার সন্ধানে বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। কখনও বলে সিরাজগঞ্জের র্যাবের কাছে আছে, আবার কখনও বলে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের কাছে আছে। আমরা সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কেউ আমার স্বামীর সন্ধান দিতে পারেনি। তাই শেষ ভরসা হিসেবে ঢাকায় গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছি। এর আগে আমি কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সাতবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। কিন্তু আমার স্বামীর খোঁজ পাইনি।
সাজ্জাদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সাজ্জাদ হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন। ঢাকার গাজীপুরের মাওনার ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় র্যাব-১ এর সদস্যরা। রিসোর্টের মালিক মনিরুজ্জামানকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই রিসোর্ট থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবু ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আখতারুজ্জামান লাবু ফিরে এলেও সাজ্জাদ ফিরে আসেনি। সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাদের শিশু মেয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে ফিরে পেতে চাই।’
