অধস্তন এক কর্মচারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য ফাস্ট ফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ডস তাদের প্রধান নির্বাহী স্টিভ ইস্টারব্রুককে বরখাস্ত করেছে। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, যদিও সম্মতির ভিত্তিতেই ইস্টারব্রুক ঐ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, তবুও অধস্তন কর্মচারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি কোম্পানির বিধি ভেঙেছেন।
কর্মচারীদের কাছে এক ই-মেইল বার্তায় জাতিতে ব্রিটিশ ইস্টারব্রুক তার প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তিনি লেখেন, ‘কোম্পানির বিধি মেনে আমি পরিচালনা বোর্ডের সঙ্গে একমত হয়েছি যে, আমার এখানে থাকা উচিত নয়।’ ৫২ বছর বয়সি ইস্টারব্রুকের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। তারপরও অধস্তনের সঙ্গে প্রেম করাকে অপরাধ হিসেবে দেখেছে ম্যাকডোনাল্ডস।
১৯৯৩ সালে তিনি লন্ডনে একজন ম্যানেজার হিসেবে ম্যাকডোনাল্ডসে ঢোকেন, এবং তারপর তরতর করে শীর্ষে উঠতে থাকেন। ২০১১ সালে তিনি ম্যাকডোনাল্ডস ছেড়ে প্রথমে পিজ্জা এক্সপ্রেস এবং পরে আরেকটি জনপ্রিয় এশীয় রেস্তোরাঁ চেইন ওয়াগামামার প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করেন। ইস্টারব্রুক ২০১৩ সালে আবারও ম্যাকডোনাল্ডসে যোগ দেন ব্রিটেন এবং উত্তর ইউরোপ অপারেশন্সের প্রধান হিসেবে। ২০১৫ সালে তিনি মার্কিন এই ফাস্ট ফুড জায়ান্টের প্রধান নির্বাহী হন।
ম্যাকডোনাল্ডসের মেনু থেকে শুরু করে দোকানের সাজসজ্জা ঢেলে সাজানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ইমেজ তৈরির পেছনে ইস্টারব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসের শেয়ারের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। কোম্পানির ব্যবসা বাড়াতে অসামান্য ভূমিকা রাখার পরেও শুক্রবার ম্যাকডোনাল্ডসের পরিচালনা বোর্ড তাকে প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যাকডোনাল্ডসের বিধিতে রয়েছে—কোনো ম্যানেজার তার অধস্তনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। পরিচালনা বোর্ড মনে করেছে, অধস্তনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে ইস্টারব্রুক একদিকে যেমন বিধি ভঙ্গ করেছেন, অন্যদিকে তিনি তার বিবেচনা বোধের প্রতি সুবিচার করেননি। এর আগে তার বেতন নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইস্টারব্রুক ।
২০১৮ সালে যেখানে ম্যাকডোনাল্ডস কর্মীদের গড় বেতন ছিল বছরে ৭৪৭৩ ডলার, সেখানে তার নিজের বেতন ছিল বছরে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলার।
