দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে গত রবিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সেটি কমে এখন ২০ শতাংশের কাছাকাছি। এই যে দরিদ্র দূর হলো, এটা কীসের হাত ধরে হয়েছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর কোনো রকম ম্যাজিকতো আমাদের হাতে নাই। সিপিডি বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে মূল্যায়ণ করলে ভালো হতো। গতকাল সোমবার শেরে বাংলানগরে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোর সৌজন্য সক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য সরকারের প্রবৃদ্ধির তথ্যকে ‘সুতা কাটা ঘুড়ি’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের আর তাদের অবস্থান একরকম নয়। আমাদের অবস্থান আমাদের দেশের জনগণের জন্য। তিনি বলেন, আমি দেশের জনগণের নুন খাই, তাই দেশের জনগণের কথা বলি। সিপিডি কাদের নুন খায় তা আমার জানা নেই। সিপিডি দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে তা দুঃখজনক। সিপিডির আয় কোথা থেকে আসে? দেশের জনগণের জন্য তারা কী করেছে? কয়জন লোকের চাকরি দিয়েছে?
‘জাপানের সঙ্গে কাজ করা অনেক সহজ’
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমানে জাপানের সঙ্গে আমাদের অনেকগুলো প্রকল্প চলমান। এসব প্রকল্প থেকে সুফল নিশ্চিত। আগামীতেও তাদের সাথে আমাদের আরো বেশি বেশি প্রকল্পে কাজ করার প্রত্যয় রয়েছে। জাপান সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে এবং সুদের হারও কম থাকে। জাপানের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকে না। তাই জাপানের সঙ্গে কাজ করা অনেক সহজ। আগামী ১৬ তারিখে তারা তাদের পুরো প্রতিনিধি দল নিয়ে আসবে এবং আমাদের পারস্পরিক সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
