মো. আমিরুজ্জামান
নারীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে রকমারি চটের ব্যাগ আর কার্ড। শপিং ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, ডল ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, নারীদের পার্টসসহ নানা পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করছেন প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা। এতে করে বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। তৈরি এসব পণ্য মানে ও গুণে বিদেশিদের কাছে চাহিদা থাকায় বাড়ছে চটের ব্যাগের ও হাতে তৈরি কার্ডের চাহিদা।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার চিনি মসজিদ এলাকায় ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া নারীরা। এই প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে নারীরা এমসিসির অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ঐ প্রতিষ্ঠানের শুধু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মজুরি পেতেন নারীরা। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে নারীরা বেকার হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে তারা সবাই মিলে সঞ্চয়ের টাকায় গড়ে তোলেন ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সংস্থা। ১৬ শতক জমিতে ছয়তলার ভিত্তি দিয়ে চারতলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। সেখানে প্রায় ১১০ জন নারী উদ্যোক্তা শ্রমিক ও ১৫ জন কর্মকর্তা নিরলসভাবে তৈরি করছেন চটের রকমারি ব্যাগ ও হাতে বানানো কার্ড। এসব পণ্য আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা থেকে উত্কৃষ্ট মানের পাট ও চট সংগ্রহ করা হয়। তারপর মেশিনে কাটিংয়ের পর সেলাই করে তৈরি করা হয় উন্নতমানের এসব চটের ব্যাগ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী স্ক্রিনপ্রিন্ট ও অন্যান্য কাজ করা হয়। ফলে এসব ব্যাগ খুবই টেকসই ও মজবুত হয়। এখানে পুরোনো কাপড় থেকেও নারীরা ব্যাগ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েই চলেছে।
‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ প্রতিষ্ঠার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন গিয়াসউদ্দিন (৫৫)। তিনি সবার কাছে সত্, কর্মঠ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের ডিজাইন দেখিয়ে অর্ডার গ্রহণ করা হয়। আমাদের সব ক্রেতাই যেহেতু বিদেশি, সে কারণে তাদের ইচ্ছানুযায়ী চটের ব্যাগ ও কার্ড তৈরি করে সরবরাহ করে থাকি। এখানে যারা কাজ করেন, সব নারীই উদ্যোক্তা ও শ্রমিক। ফলে কেউ কাজে ফাঁকি দেন না।’ তিনি বলেন, পারিশ্রমিক ও লাভের অংশ ভাগবাঁটোয়ারার পর প্রতি বছর ৫০০-৬০০ প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলের ইউনিফর্ম বিতরণ করা হয়। গরিব ও মেধাবী এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব ইউনিফর্ম বিতরণ করতে পেরে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং সেন্টার খোলার ইচ্ছা পোষণ করে বলেন, এতে করে গরিব, অভাবী নারীদের কাজ করার আগ্রহ ও মানসিকতা সৃষ্টি হবে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন তারা।
