ছোটবেলায় মিনহাজ স্বপ্ন দেখতেন রোবট বানানোর। মাধ্যমিকে এসে আইসিটি পড়ার সময় রোবট বিষয়ে ভালো করে জানতে পারেন তিনি। সেই সময়ই ঠিক করেন একদিন নিজে রোবট বানাবেন। এরপর ভর্তি হন কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিপার্টমেন্টে। সেখানেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে গেলেন আশরাফুল রহমান মিনহাজ।
মিনহাজের গ্রুপ মেম্বার মাহমুদা আফরিন। দুজন শুরু করলেন রোবট তৈরির কাজ। যার নাম দেওয়া হয়েছে মিয়া-১। তাদের প্রজেক্ট মেন্টর হিসেবে ছিলেন তাদের শিক্ষক মাসুম বাকাউল ও সুপারভাইজার ছিলেন মোজ্জামেল হক।
পুরো প্রজেক্টের কাজ করার সময় মাহফুজ ও মাহমুদা কাজগুলোকে ৩ ভাগে করে নেন। মিয়া-১ সম্পর্কে মিনহাজ বলেন, ‘সম্পূর্ণ হাতে বানানো হয়েছে মিয়া-১। বানানোর সকল উপকরণ সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু দিয়েই বানিয়েছি। এটা বানাতে আমরা দুটো আলাদা কম্পিউটার ব্যবহার করেছি। মোটরগুলো প্রোগ্রাম করা ছিল সি++ ল্যাঙ্গুয়েজে। মোটর কন্ট্রোল করার জন্য একটি এসবিসি বা সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার কাজ করছে, পাশাপাশি একটি কম্পিউটার মিয়া-১-এর ব্রেন হিসেবে কাজ করছে, অর্থাত্ বাকি সব পার্টসসহ এসবিসিকেও কন্ট্রোল করছে। এর বুকে আছে টাচস্ক্রিন এলসিডি, যা মিয়া-১-কে করেছে আরো বেশি আকর্ষণীয়।
মিয়া দেখতে মানুষের মতো তার ডিজাইনের কারণে, সে একদম দু পায়ে দাঁড়াতে পারে, নাড়িয়ে দিলেও আবার আগের পজিশনে চলে আসে। মিয়া কথা শুনতে ও বলতে পারে। একে শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মানব শিক্ষকেরা একেক বিষয়ে পড়িয়ে থাকেন, কেউ বাংলা, কেউবা ইংরেজি, কিন্তু মিয়া অন্য লেভেলের। আপনি তাকে যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবেন। মিয়া উত্তর তো দেবেই প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড করে তার বুকে লাগানো স্ক্রিনে দেখাবে। মাহমুদা আফরিন বলেন, ‘মিয়া-১-এর চোখে আছে নাইট ভার্সন ক্যামেরা, যার ফলে মিয়া অন্ধকারে দেখতে পায়, এবং অবজেক্ট ডিটেকশন, রিকগনিশন, ফেস ডিটেকশন, রিকগনিশন ও মোশন সেন্স করতে পারে। এছাড়াও যেকোনো অবস্থায় মিয়া অনাকাঙ্ক্ষিত কাউকে দেখলে ৯৯৯-এ কল করে জানাতে পারে এবং কোনো কিছু টারগেট করে ফায়ারও করতে পারে। রোবটি বানাতে সময় লেগেছে ২ মাস। খরচ লেগেছে ৪০ হাজার টাকা। যার সবটাই দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট থেকে।’
দেশের অনেকেই রোবটিক্সকে সায়েন্স ফিকশন ভাবেন, তাদের এ ধারণা পরিবর্তন করতে রোবটটিকে ওপেন সোর্স করে দেওয়ার কথা বললেন মাহফুজ ও মাহমুদা।
