অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনাময় ১০ ক্ষেত্র

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৬

মাহবুব শরীফ

 

সময়টা প্রতিযোগিতার। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই সময়ে ভালো বিষয়ে ভালো একটি ডিগ্রি নিয়েও অনেকে মনের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাচ্ছেন না। প্রতিবছরই আমাদের দেশে হাজার হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অর্জন করছেন। তাদের আধিক্যের কারণেই অনেককে নিজের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিম্ন স্তরের চাকরিও করতে হয়। আবার অনেকেই রয়েছেন যারা এখন একটি চাকরি করছেন কিন্তু এর পাশাপাশি বাড়তি কিছু উপার্জন করতে চান। আবার আমাদের দেশে বিশেষ করে মেয়েরা অনেকেই চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভ করেন না পরিবার থেকে। এসব ক্ষেত্রে হাল ছেড়ে না দিয়ে বিকল্প উপায় তো খুঁজে বের করতেই হবে।

 ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন করতে চাইলে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে গিয়ে কাজের ধরণ দেখে নিন এবং সেখান থেকেই বেছে নিন আপনার পছন্দের কাজ। কোনো কাজে আপনার দক্ষতা আগে থেকে না থাকলেও সেটার জন্য প্রশিক্ষণও নিয়ে নিতে পারেন। ঘরে বসে করা যায় এমন প্রচুর কাজের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় কিছু কাজের কথা জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। পাঠকদের জন্য সেই কাজগুলোর কথা তুলে ধরা হলো এখানে।

১. পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন :বিভিন্ন শ্রেণির জন্য পাঠ্যপুস্তক লেখার ক্ষেত্রে এসব পাঠ্যপুস্তকের কনটেন্ট উন্নয়নের জন্য প্রকাশকরা সবমসয় সচেষ্ট থাকেন। এই কাজের জন্য আপনাকে যেমন শিক্ষিত হতে হবে, তেমনি পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা ও দক্ষতা থাকতে হবে।

২. অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা :এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে শিক্ষাদান করে থাকে। এসব ক্লাস পরিচালনার জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘরে বসেই অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিং, ইমেইল, ফোন প্রভৃতির মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা করার সুযোগ থাকে।

৩. লেখালেখি :যাদের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে লেখালেখির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে, তাদের জন্য উপযোগী কাজ রয়েছে অনলাইনে। সাধারণত বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট তৈরি ও সম্পাদনার কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে এতে। অনেক সময় নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়, তৈরি করতে হয় তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণী নিবন্ধ। লেখালেখির অভ্যাস থাকলে এটি একটি আদর্শ কাজ।

৪. অনলাইন/হোম অ্যাটর্নি :আইন চর্চায় অভিজ্ঞরা অনলাইনেই আইনি সহায়তা প্রদান করতে পারেন। উচ্চপর্যায়ের আইনি প্রকল্পে কাজ করার জন্য অনেকেই অ্যাটর্নি নিয়োগ দেন অনলাইনে। যাবতীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ প্রদান করাই এই অনলাইন অ্যাটর্নির মূল কাজ।

৫. ওয়েব সার্চ ইভ্যালুয়েটর :ইন্টারনেটের বিভিন্ন সার্চ রেজাল্টোর বিশ্লেষণ থেকে ওয়েব কোম্পানির ফলাফল বিশ্লেষণ করার কাজটি অনেক কোম্পানিই অনলাইনে করিয়ে নিয়ে থাকে। এসব কাজের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন প্রযুক্তির জ্ঞান এবং ইন্টারনেট বিষয়ক যাবতীয় খুঁটিনাটি। সাথে সাথে কোম্পানির পণ্য বা সেবা সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে।

৬. ক্রীড়া মনোবিদ :খেলোয়াড়দের মনোসংযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক মনোযোগ না দিতে পারলে তার প্রভাব খেলার উপর ভালোভাবেই পড়ে। অনেক খেলোয়াড় তাই ব্যক্তি উদ্যোগে মনোবিদ রাখেন অনলাইনে। এই কাজের জন্য খেলোয়াড়ের আচরণ, স্বাস্থ্য, খেলার মনোযোগ প্রভৃতি বিষয়ে ইমেইল, স্কাইপ বা ফোনে পরামর্শ দিতে হবে।

৭. নার্সদের ব্যবস্থাপনা :আমাদের দেশে এটি তেমন চালু না থাকলেও উন্নত দেশগুলোতে নার্সদের সমন্বয় করার জন্য নার্সিং কেস ম্যানেজার থাকে। ইনস্যুরেন্স ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিয়োগ দিয়ে থাকে।

৮. ভ্রমণের পরামর্শদাতা :বিভিন্ন ট্রাভেল ও হসপিটালিটি কোম্পানি তাদের গ্রাহকদের জন্য পরামর্শদাতা বা কাউন্সিলর নিয়োগ দিয়ে থাকে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হয় এই কাজে। অনলাইনে টিকেট বুকিং, হোটেল বুকিং, ট্যুরিস্ট স্পস্ট প্রভৃতির নির্দেশনা এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।

৯. অনলাইন ট্যাক্স অ্যাকাউন্ট্যান্ট :বাইরের দেশের ট্যাক্স সিস্টেম সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে অনলাইনে ট্যাক্স অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাজটি করতে পারেন। এই কাজে গ্রাহকের ট্যাক্স সম্পর্কিত যাবতীয় ফর্ম পূরণ ছাড়াও ট্যাক্স বিষয়ক সকল পরামর্শ প্রদান করতে হবে। সঠিকভাবে ট্যাক্স প্রদান করে গ্রাহক কী করে ক্ষতি এড়াবেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে আপনাকেই।

১০. ব্যবস্থাপনা পরিচালক

মূলত কিছু অলাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  নিয়োগ দেওয়া হয় অনলাইনে। কোম্পানির কৌশলগত অবস্থান, অংশিদারিত্ব উন্নয়ন, কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ প্রভৃতি কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকে এই কাজের মধ্যে। কোম্পানিকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটিও এই কাজে করতে হয় দূর থেকেই।

এ ছাড়া অন্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে বুককিপিং, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং ও পেরোল তৈরির দক্ষতা।