একটা সময় স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সেই স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখতে দেখতে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষে কালের নিয়মে পাড়ি দিতে হয়ে ভবিষ্যতের আরো বড়ো স্বপ্ন ছোঁয়ার আশায়। ছেড়ে যেতে হয় প্রিয় ক্লাস রুম, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বন্ধু ও পরিচিত অঙ্গন। এ বিদায় বড়ো যাতনার। তিলে তিলে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো পায়ে পিষে এগিয়ে যেতে হয় ভবিষ্যত্ গড়ার আকাঙ্ক্ষায়।
২৮ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হলো। সেদিন সকালে ঘুম থেকে তড়িঘড়ি করে উঠে ছুটলাম প্রিয় বিভাগে। কেননা এই যাওয়াই শেষ যাওয়া। হয়তো কখনোবা বিভাগে গেলেও সব বন্ধুদের পাওয়া যাবে না আর। বিভাগে গিয়ে সকল বন্ধুরা মিলে গায়ে জড়িয়ে নিলাম ধবধবে সাদা টি-শার্ট। যার সামনে লেখা শিক্ষা সমাপনী সমাবেশ আর পেছনে বাংলা বিভাগ। বান্ধবীরা কিন্তু টি-শার্ট পরেনি, তারা সবাই পড়েছে একই কালারের শাড়ি। মুহূর্তেই বন্ধুদের সব আবেগ আঁছড়ে পড়ল সাদা টি-শার্টের ওপর। দেখতে দেখতে সাদা টি-শার্ট ভরে উঠল বন্ধুদের দুষ্টু-মিষ্টি মন্তব্যে। কেউ লিখল—এবার আর কোনো মেয়ের দিকে না তাকিয়ে ভাবির জন্যই ওয়েট করো। আবার কেউ লিখল-তুই কিন্তু বদ ছিলিরে, আবার কেউ লিখল ব্যর্থ প্রেমিক। এমন হাজারো মন্তব্যে টি-শার্ট ভরে উঠল।
বিদায় বলে যে আনন্দ হবে না তা তো নয়। বিদায়েও যে আনন্দ থাকে তার প্রমাণ করতেই সবাই যেন মেতে উঠল রঙের হলি খেলায়। অনেকে রঙ মাখতে না চাইলেও অনেকটা জোড় করে পুরো মুখে মাখিয়ে ভূত করে তোলার প্রতিযোগিতা। না চাইলেও রঙ যে মাখতে হবে তা বুঝেই আমি স্বেচ্ছায় সঁপে দিলাম নিজেকে বন্ধুদের হাতে। মুহূর্তেই রঙিন হয়ে উঠল পুরো মুখ। এ যেন বিদায়ের বিষাদেরর রঙ!
অতীতে বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো বিদায় অনুষ্ঠান না হলেও এবার আমাদের আবদারে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভাগ। আর সে বিদায় অনুষ্ঠান যখন শিক্ষাজীবনের শেষ শ্রেণিকক্ষে তখনই সৃষ্টি হলো এক আবেগঘন পরিবেশের।
