ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর নির্ভার থাকার কথা বাংলাদেশের। এমনকি দলের তরুণরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ভাসতে থাকলেও অন্যায় কিছু হবে না। কিন্তু সেই তরুণদেরই প্রতিনিধি আফিফ হোসেন ধ্রুব বলছিলেন, তারা এই জয়ের ফলে এমন কিছু শূন্যে উঠে যাননি। তারা মাটিতেই পা রেখেছেন। আর সেই সঙ্গে নিজেরা আরো উন্নতি কী করে করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবছেন।
ব্যাটে ও বলে বেশ কিছুদিন ধরেই উজ্জ্বলতা ছড়াতে থাকা আফিফ বলছিলেন, তারা সবাই এখন সেরা পারফরম্যান্স করা নিয়ে ভাবছেন, ‘ড্রেসিংরুমের অবস্থা ভালো। আমরা পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিজেদের খেলা নিয়ে ভাবছি। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করার পর দেখা যাবে। আপাতত সবার জায়গা থেকে আমাদের সেরা পারফরম্যান্সটা করার চেষ্টা করব।’
গত ম্যাচে আফিফ অবশ্য বেশি চমকে দিয়েছেন ফিল্ডিং দিয়ে। দলের তরুণরা সবাই ভালো ফিল্ডিং করেছেন। আর আফিফ আগে থেকেই ভালো ফিল্ডার। এই ম্যাচে নিজের ফিরতি বলে দারুণ এক ক্যাচ নেওয়া আফিফ বলছিলেন, তাদের পরিকল্পনাই ছিল আগ্রাসী ফিল্ডিং করা, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল, ফিল্ডিংয়ে সবাই আগ্রাসী থাকব। মাঠে সেটাই করার চেষ্টা করেছি। ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারে অনেক জোর দেওয়া হচ্ছে, যেন প্রতিটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারি।’
নিজেদের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে অধিনায়ক ও কোচের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল বলে জানালেন আফিফ, ‘আমাদের অধিনায়কের বার্তা ছিল, যে যেটা সবচেয়ে ভালো পারে, সেটাই করতে হবে। একটা দল হিসেবে খেলতে হবে। এটাই ছিল আমাদের প্রতি তার বার্তা। কোচ আমাদের বলেছেন, সব সময় মন খুলে খেলতে। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করে, তাকে সেভাবে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলেই এভাবে খেলতে পারছে।’
সব মিলিয়ে এই তরুণ মনে করেন, সবাই যার যার জায়গা থেকে সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করেছেন বলেই এই ফলটা এসেছে। তিনি বলছিলেন, ‘সবাই নিজের জায়গা থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিকল্পনাই ছিল দলের। আমরা অনুশীলনে এভাবেই চেষ্টা করেছি। সবাই একসঙ্গে থেকেছি।’
দলের তরুণরাই এখন বেশি উজ্জ্বল। এটা ঠিক যে জয়টা এসেছে মুশফিকুর রহিমের মতো এক সিনিয়রের দারুণ ব্যাটিংয়ে। তবে তরুণরা আলাদা করে আলো ছড়িয়েছেন। আর আফিফ বলছিলেন, তরুণেরা খুব ভালো সহায়তা পাচ্ছেন সিনিয়রদের কাছ থেকে, ‘আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়েরা জুনিয়রদের অনেক সহায়তা করছেন। এটা আমাদের চাপহীন ও ভীতিহীন ক্রিকেট খেলতে অনেক সাহায্য করেছে। তারা সব সময় সহায়তা করে যাচ্ছেন। আশা করি সামনেও কোনো সমস্যা হবে না।’
এই ম্যাচের পর মনে হতে পারে বাংলাদেশ নির্ভুল আছে। আর ভারতই শুধু চাপে আছে। কিন্তু আফিফ বলছিলেন, তারা নিজেদের ভুল নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। আর ভারত চাপে আছে কি না, সে নিয়ে ভাবছেনই না, ‘ম্যাচ জিতলে আসলে তেমন ভুল বের হয় না। এরপরও ব্যক্তিগতভাবে যার যে ভুলত্রুটি ছিল, সে সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবে। আমরা জানি না, ওরা চাপে আছে কি না। তবে প্রথম ম্যাচে জেতার পর আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী আছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভালো অনুভব করছি। এটা পরের ম্যাচে আমাদের আরো ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’
