প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে কয়েক লাখ মহিলা। বাংলাদেশেও এ সংখ্যাটা খুব কম নয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার নতুন রোগী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতিদিন ১৮ নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। খুব দ্রুত সময়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এটি ছড়িয়ে পড়ে বলে সবাই খুব আতঙ্কিত হয়ে যান; কিন্তু সাধারণ কিছু শিক্ষা ও অল্প একটু সচেতনতাই পারে এই রোগের করালগ্রাস থেকে বাঁচাতে হাজারো প্রাণ। তাই এখন সময় হয়েছে সচেতন হওয়ার।
প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট তারিখে নিয়মিত নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করার মাধ্যমে আমরা স্তনের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সতর্ক হতে পারি, যাকে বলে ‘সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন’। ২০ বছর বয়স থেকে এই শিক্ষা দিলে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
যাদের মাসিক নিয়মিত, তারা মাসিক শেষ হবার পর অথবা মাসিকের সাত দিন পরে এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। যাদের মাসিক অনিয়মিত অথবা বন্ধ হয়ে গেছে, তারা মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে এই পরীক্ষাটি করবেন। প্রথমেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করতে হবে—স্তনের আকৃতিতে কোনো পরিবর্তন বা ত্বকে কোথাও কোনো পরিবর্তন আছে কি না/স্তনে কোনো চাকা বা কোনো অংশবিশেষ পুরু মনে হয় কি না। কোমরে হাতের তালু রেখে নিচের দিকে জোরে চাপ দিন যাতে বুকের মাংসপেশিতে টান ধরে এবং দুই হাত ওপরে তুলে স্তনের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় কি না দেখতে হবে।
দ্বিতীয় অংশ—বিছানায় শুয়ে ডান কাঁধের নিচে বালিশ এবং মাথার নিচে ডান বাহু রাখতে হবে। বাম হাতের সব আঙুল একসঙ্গে মিলে অগ্রভাগ দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে ছোটো ছোটো চক্রাকারে পরীক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি ডান বগল পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনো চাকা আছে কি না। স্তনের বোঁটা চেপে দেখতে হবে কোনো রস বের হয় কি না। একইভাবে বাম স্তন পরীক্ষা করতে হবে।
গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, কিছু খাবার ক্যানসার সেলের তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে (ব্রকলি, আনার, ব্লুবেরি, লেবু)। খাদ্যতালিকায় এসব রাখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি মায়েদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে সন্তানকে বেশি বেশি বুকের দুধ পান করানোর জন্য।
বর্তমানে আমাদের দেশেই স্তন ক্যানসারের সব আধুনিক চিকিত্সা করানো সম্ভব। দেশে জাতীয়ভাবে এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ উদ্যোগে স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন দেশে জাতীয়ভাবে এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ উদ্যোগে স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করে আসছে। সেই কথাগুলো আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে, সব মা-খালা-বোন-কন্যা সন্তান—সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলেই আমরা সবাই মিলে কিছুটা হলেও এই রোগটাকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব। তাই আসুন, আজই সচেষ্ট হই। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে আমরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করলে এর করালগ্রাস থেকে বাঁচতে পারবে অসংখ্য প্রাণ, যারা আমাদেরই মা, আমাদেরই বোন, আমাদেরই কন্যা।
লেখক : রেসিডেন্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজি
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতাল।

