রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখ বন্ধ করে অবৈধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রেন্ট-এ-কারের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে সড়ক ও মহাসড়কে। যানজটে অনেক সময় হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত প্রবেশমুখ বন্ধ করে বিশ্বরোড, বরাব, রূপসী, বরপা, কর্নগোপ, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ বিভিন্ন স্থানে ১৫-২০টি সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এমনকি ভুলতা থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত মহাসড়কের এক অংশ দখল করে রেন্ট-এ-কারের স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এতেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভুলতা ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ফ্লাইওভার দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে যানজট অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কের প্রবেশমুখ ও মহাসড়কের অনেকটা জায়গা দখল করে সিএনজি ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় সারাদিনই এখানে যানজট লেগে থাকে। মহজমপুর-বরপা সড়কের বরপা বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখ বন্ধ করে স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা গড়ে তুলেছে এ স্ট্যান্ড। এখানেও মহাসড়কের একাংশ দখল করে বরপা থেকে যাত্রাবাড়ী যাতায়াতকারী গ্রিনবাংলা নামক গাড়ির স্ট্যান্ড। গোলাকান্দাইল, ভুলতা ও সাওঘাট এলাকার মহাসড়কের চিত্র হলো ভিন্ন। অনেক সময় সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক ও রেন্ট-এ-কারের গাড়ির কারণে মনে হয় এখানে গাড়ির হাট বসেছে। বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। এই ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, সড়ক ও মহাসড়কের পাশে অনেকস্থানে সরকারি খালি জায়গা ও জলাশয় রয়েছে। এগুলো ভরাট করে মহাসড়কের পাশের ঐ স্ট্যান্ডগুলো সেখানে স্থানান্তর করলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে। তখন আর মহাসড়কের প্রবেশমুখ বন্ধ হবে না। যানজটও থাকবে না।
জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহাবুব শাহ বলেন, ‘যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকে। প্রতিদিনই আমরা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো সরিয়ে দেই। তারা যাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখ বন্ধ করতে না পারে, সে জন্য স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন রফিকুল হক বলেন, যানজট নিরসনের কাজটা মূলত ট্রাফিক পুলিশের। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি যানজট নিরসনে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ যথেষ্ট কাজ করে। মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশা ও অটোস্ট্যান্ডের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
