বান্দরবান মুক্ত দিবস উদযাপন

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৪

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জেলা শহরের ট্রাফিক মোড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে মুক্ত দিবস এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৪ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। শহরের বর্তমান জিরো পয়েন্টে (তখনকার এসডিও বাংলোয়) বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে বান্দরবান জেলাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেছিল।

মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক জেলা কমান্ডার আবুল কাশেম জানান, বান্দরবান মুক্ত দিবস উদযাপনে ট্রাফিক মোড়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অফিসে আলোচনা সভা এবং প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। আর্থিক সংকটে ব্যাপকভাবে মুক্ত দিবস এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে পারিনি। মুক্তিযোদ্ধা জানায়, ১৯৭১ সালে রোয়াংছড়ি উপজেলার ক্যানাইজু পাড়ায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মর্টার হামলায় ভারতীয় নাগরিক ১৯৭১ সালের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর টিএম আলী বীর প্রতীক নিহত হয়। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সানু অং, উদয় সেন তঞ্চঙ্গ্যাসহ আরো কয়েকজন নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ক্যানাইজু পাড়ায় নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকবাহিনী। স্থানীয় দুই পাহাড়ি যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং অসংখ্য পাহাড়ি নারীর ইজ্জত নষ্ট করে হানাদার বাহিনী।

আজও  সেই নির্মমতার কথা ভুলেনি ক্যানাইজু পাড়ার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরেরদিন ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ধোপাছড়িতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা ক্যানাইজু পাড়ায় ঝাঁপিয়ে পড়লে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। আর ঐদিন হানাদারমুক্ত হয় বান্দরবান জেলা।