মো. আমিরুজ্জামান
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
ভারতের দুটি ও বাংলাদেশের তিনটি নাট্যদলের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নীলফামারী জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৫দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্য উত্সব। গত ১ নভেম্বর সকালে উত্সবটি উদ্বোধন করা হয় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমিতে। নাট্যোত্সবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নবনীতার সঞ্চালনায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি এম আতিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আল জাবির, নাট্যকার ও নির্দেশক সায়িক সিদ্দিকী, সনাক সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম ডাবলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আহসান রহিম মঞ্জিল ও পৌর আ’লীগের সভাপতি মুশফিকুর রহমান রিন্টু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্সবের আহ্বায়ক নীলফামারী জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাট্য উত্সবের যুগ্ন-আহ্বায়ক শাহজাহান, জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থার সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মহি, সদস্য দৃষ্টি প্রামাণিক, বিপ্লব কুমার রায় জার্জিস আলম প্রমুখ। এর আগে শহরে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শিল্পকলা চত্ত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
আন্তর্জাতিক নাট্য উত্সবের আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এই উত্সবে ভারতের দুটি ও বাংলাদেশের তিনটি নাট্যদল অংশ নেয়। দুই দেশের সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ায় আবদ্ধ থাকলেও মনের ভালোবাসা ও আত্মার টান রয়েই গেছে। প্রতিবেশী এই দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে এই নাট্য উত্সব আয়োজন করা হয়। চারশ’ আসনের শিল্পকলা একাডেমিতে একই নাটকের দুটি করে শো অনুষ্ঠিত হয়। কারণ এই উত্সব ব্যাপক সাড়া ফেলে নাট্যপ্রেমীদের মাঝে। ভিড় সামলাতেই দুটি করে শো আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী দিন প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের সায়িক সিদ্দিকীর রচনা ও নির্দেশনায় ভারতের চাকদাহ নাট্যজন মঞ্চায়িত করে ‘ভানু সুন্দরীর পালা’। দ্বিতীয় দিন মলয় ভৌমিকের রচনা ও নির্দেশনায় রাজশাহীর অনুশীলন নাট্যদল মঞ্চায়িত করে ‘বুদে রামের কূপে পড়া’। তৃতীয় দিন গৌতম মুখার্জির নির্দেশনায় ভারতের ছন্দম নাট্যগোষ্ঠী মঞ্চায়িত করে ‘মেদেয়ারা’। চতুর্থদিন সম্বিক সাহার রচনা ও জারজিজ আলমের নির্দেশনায় নীলফামারীর জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থা মঞ্চায়িত করে ‘হবু রাজার একুশ পালন’। সমাপনী দিন রুবায়েত্ আহমেদের রচনা ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীর নির্দেশনায় ঢাকা পদাতিক নাট্য সংসদ মঞ্চায়িত করে সৈয়দা শামসি আরা সায়েকার একক পরিবেশনায় নাটক ‘গহনযাত্রা’। সমাপনীর দিন নাটক শুরুর আগে নীলফামারীর কয়েকজন সাংস্কৃতিককর্মীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
