মনিরুজ্জামান ধীরু
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙা) সংবাদদাতা
গত সোমবার ভোরে লালন সাঁইজির গানের মধ্যে দিয়ে চুয়াডাঙার দর্শনা আকন্দবাড়িয়ার বাউল পরিষদ আয়োজিত ২০তম বাউল ও লোক উত্সব শেষ হয়েছে। চুয়াডাঙার দর্শনা কেরু চিনিকল মাঠে বাউল পরিষদ চত্ত্বরে এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. নইম হাসান জোয়ার্দ্দার প্রধান অতিথির বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্সবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বাউল পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক মেম্বার ওমর আলীর সভাপতিত্বে টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় বাউল ও লালন সংগীত। চলে ভোর রাত পর্যন্ত। ‘২০ বছর পূর্তিতে, নাচে সবাই ফূর্তিতে।’—শ্লোগানে গত বুধবার রাতে চুয়াডাঙা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর ৪ দিনের বাউল ও লোক উত্সবের উদ্বোধন করেন। দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন চুয়াডাঙা পুলিশ সুপার মো জাহিদুল ইসলাম, অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো কলিমুল্লাহ, সার্কেল এস পি আবু রাসেল ও ওসি আবু জিহাদ মো. ফকরুল ইসলাম খান। আলোচনা শেষে কুষ্টিয়া লালন একাডেমির খাইবর শাহ ও তার দল এবং চুয়াডাঙা বাউল পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোকসংগীত শিল্পী ধীরু বাউল ও তার দলের শিল্পীরা লালন ফকিরের দৈন্য গান ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ গান পরিবেশন করে দর্শক মাতিয়ে রাখেন। উদ্বোধনের পর বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠান দু’দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে আবার শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী ও হারিয়ে যাওয়া জারি গান, সাপের খেলা, লাঠি খেলা ও রাতে লোকজপালা নছিমন সুন্দরী, গুনাই বিবি ও পালাগান অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার পালাগানের শিল্পী খোরসেদ আলম ও স্বরনালী সরকারের পরিবেশনায় ভোর পর্যন্ত চলে শরীয়ত-মারফত গান। গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্য মণ্ডিত অনুষ্ঠান দেখতে সীমান্ত অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামের সব বয়সী হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। বাউল ও লোক উত্সব ঘিরে পরিষদ চত্ত্বরে মিষ্টি সামগ্রীর দোকান, খেলনা, মাটির পাতিল, বাঁশ-বেতের তৈরি ঝুড়ি, একতারা ও বাশির দোকানসহ নাগরদোলা বসেছিল। পুলিশ ও বিজিবির কড়া নজরদারিতে সকল ধর্মের মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। লোক ও বাউল উত্সব বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
