সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীসহ গোটা দেশে প্রচার-প্রচারণায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ধানের শীষের প্রার্থী এবং সমর্থকরা। অধিকাংশ স্থানের প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। অনেক প্রার্থী এলাকায় গিয়ে ঘরে বসে আছেন। যারা বেরুচ্ছেন তারাই হামলায় পর্যুদস্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন গ্রেফতার হচ্ছেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। নতুন নতুন মামলা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আসম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অধিকাংশ নেতাই হামলার শিকার হয়েছেন। ঢাকাসহ সারাদেশে নৌকার প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেলেও ধানের শীষের পোস্টার ও প্রচারণা চোখে পড়ছে কমই।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ভয়াবহ এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আছি আমরা। নির্বাচন কমিশন-পুলিশ প্রশাসন-সিভিল প্রশাসন সরকারের সাথে একজোট বেঁধে সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থী ওবং সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। এ অবস্থায় আমরা কি করতে পারি। আমরা জানি এসব করা হচ্ছে এই কারণে যে, আমাদেরকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় আওয়ামী লীগ। কিন্ত সেই অশুভ স্বপ্ন আর এবার বাস্তবায়িত করতে পারবে না তারা। আমরা শেষমুহূর্ত পর্যন্ত দেখব। বিএনপির বন্দুক-পিস্তল-অস্ত্র নেই, শুধু রয়েছে ভোটের দিনে একটি ব্যালট পেপার যা দিয়ে সরকার পরিবর্তন করা যেতে পারে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জনগণই পারে ধানের শীষে একটি করে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে নয়; সরকার নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তবে যত নির্যাতনই হোক; আমরা নির্বাচন থেকে সরবো না। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট ডাকাতি প্রতিহত করতে হবে। আমরাই বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। গতকাল শুক্রবার বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে এক নির্বাচনী কর্মিসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা ভেদাভেদ ভুলে ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে যাবেন ও ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন; দেখবেন যাতে কেউ আপনার ভোট কেড়ে নিতে না পারে।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা জয়লাভের পথে আছি, কোনো অবস্থাতেই ভোটের মাঠ ছেড়ে যাব না। সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যত হামলা গ্রেফতার করুক কোনো লাভ নেই। ১৫ দিন পরেই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনের মাঠে আমরা আছি এবং ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবো। যতই নির্যাতন, অত্যাচার হোক আমাদের সরানো যাবে না। ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মাঠে আছে এবং শেষ পর্যন্ত থাকবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ভয়-ভীতি দেখিয়ে লাভ নেই, আমরা মরবো, কিন্তু সরবো না।
আজ টঙ্গী থেকে ড. কামালের প্রচারণা
সিলেটে মাজার জিয়ারতের পর এবার ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। আজ শনিবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সকাল ১০টায় গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তারা প্রচারণা শুরু করবেন।
সোমবার ঐক্যফ্রন্ট ও মঙ্গলবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগামী ২৬ ডিসেম্বরের আগেই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার পরিকল্পনা করেছে। এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আলাদাভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে। ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ঐক্যফ্রন্ট ও পরদিন ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের হোটেল লেক শোরে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার ছিনতাই
রাজধানীর ফকিরাপুল প্রেসপাড়ায় হানা দিয়ে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পোস্টার ও লিফলেট নিতে ফকিরাপুল প্রেসপাড়ার ঝর্ণা প্রিন্টার্সে গিয়েছিলেন ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক আবু ফায়সাল জিহাদ। তিনি জানান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজের ৩০ হাজার পোস্টার ও ১ লাখ লিফলেট কার্টনে করে মিনি ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। রাত তখন সোয়া ১০টা। হঠাত্ করেই যুবলীগ-ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সেখানে আসেন। তারা পোস্টার ও লিফলেট ভর্তি মিনি ট্রাকটি দখলে নেয়। তারপর ঝর্ণা প্রিন্টার্সসহ আশপাশের প্রেসে হানা দিয়ে বিভিন্ন এলাকার বিএনপি দলীয় প্রার্থীর হাজার হাজার পোস্টার-লিফলেট জোর করে তুলে মিনি ট্রাকসহ নিয়ে যায়।
