খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার অনির্বাণ লাইব্রেরি আয়োজিত শিক্ষক সন্মাননা অনুষ্ঠানে শিক্ষক মোহনলাল দত্তকে আজীবন শিক্ষক সন্মাননা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সন্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি স্কয়ার গ্রুপের এমডি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী।
আরও পড়ুন: প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
এসময় অন্যদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অনির্বাণ লাইব্রেরি অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক জয়দেব কুমার ভদ্র । এর আগে প্রধান অতিথি লাইব্রেরির নতুন পাঠকক্ষ ও লাইব্রেরির ওয়েবসাইট www.anirbanlibrary.com.bd শুভ উদ্বোধন করেন।
দেশে তখন প্রবল গণআন্দোলন। সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়ছে গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী সকল নাগরিক। এমনি একটি সময়ে খুলনা জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত গ্রামের কয়েকজন যুবক ভাবছিলো গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করার কথা। কবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের প্রিয় কপোতাক্ষ নদের পাড়ে বসে একদিন সন্ধ্যায় আড্ডা দিতে দিতে স্থানীয় জয়দেব কুমার ভদ্র (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি- সিলেট), মানিক ভদ্র, বিশ্বকর্মা মণ্ডল ভোলা ও মৃণাল ঘোষ সিদ্ধান্তে পৌঁছালো গ্রামে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে । তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আশপাশের কয়েক গ্রামের আগ্রহীদের নিয়ে বৈঠক করে লাইব্রেরি স্থাপনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের যুক্ত করা হয় এই কর্মযঞ্জে । স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের কয়েকদিন পর মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশে ১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর লাইব্রেরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায় । মহান বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে ‘অনির্বাণ লাইব্রেরি’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মামুদ কাটী গ্রামের কেন্দ্রস্থলে থাকা হরিসভার একটি ঘরে প্রথম শুরু হয় লাইব্রেরির কার্যক্রম। প্রথমে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বাড়িতে যে সকল বই ছিলো সেগুলো দিয়ে লাইব্রেরির সূচনা হয়। এরপর সকলের কাছ থেকে বই ও অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটিকে করা হয় সমৃদ্ধ। প্রত্যন্ত উপকূলের একটি গ্রামে লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেও তা খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষকে আকৃষ্ট করে। দুর-দূরান্তের অনেকেই এই লাইব্রেরির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। যে প্রতিষ্ঠানটি কেবলমাত্র বই পড়ার স্থানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিষ্ঠানটি হয়ে ওঠে ওই অঞ্চলে প্রগতিশীল সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্রস্থল ।
ইত্তেফাক/এমআরএম
