টানা ছুটিতে ‘বুলবুল’ বাগড়ার পর সমুদ্রস্নানে পর্যটক, তৎপর লাইফগার্ড

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৫২

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা-বাগেরহাট-পিরোজপুর এলাকায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এখনও উত্তাল রয়েছে সাগর। কক্সবাজারে ভোর থেকে ঝলমলে রোদ থাকলেও দুপুর গড়াতেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি স্থবির করে তুলেছে জনজীবন। এদিকে টানা ৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে সমুদ্রস্নানে মত্ত হয়েছেন।তাদের পাশে থেকে বিপদ সম্পর্কে হুশিয়ারি করছেন সী সেইফ লাইফগার্ড কর্মীরা।
 
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানিয়েছেন,  সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা স্বাভাবিক পরিবেশে নিরাপদে রয়েছেন। এখনও ৩ নম্বর সংকেত বলবত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পর্যটকদের স্বল্পমূল্যে আহার ও আবাসন নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে সোমবার জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন যারা আটকে পড়েছেন তারা ফিরে যেতে পারবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সবকিছু দেখভাল করা হচ্ছে।

কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রজ এন্ড ডাইয়িং এর ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানিয়েছেন, আগামীকাল সংকেত কমলে জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
 
এদিকে, সী সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি জানান, ঘূর্ণিঝড় খুলনা এলাকায় অতিক্রম করার তথ্য জানার পর রবিবার ভোর থেকেই সব বয়সী পর্যটক সৈকতে নেমেছে। সাগর স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তাল রয়েছে। পর্যটকদের ওপর সতর্কদৃষ্টি রাখা হচ্ছে। যারা একটু বিপদ সীমা অতিক্রম করছেন তাদের কাছে গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে। 

ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা সাজ্জাদুল হক বলেন, শনিবার রুমেই বন্দি থাকতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আতংক কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই সবাই মিলে বিচে আনন্দ করেছি।

আরও পড়ুন: মেঘনায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ৫

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, যেকোনো ধরণের দুর্যোগ এড়াতে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বাড়ায় মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ উপকূলের নিচু এলাকায় কিছুটা পাব্লিত হয়েছে বলে খবর পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের এসব বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজর রেখে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকাতেও আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি