ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর ৫ জনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে ভোলা সদরের ইলিশা এলাকার মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবিতে ২৪ জন জেলে নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ জন জেলে জীবিত উদ্ধার ও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন নিখোঁজ রয়েছে ১৩ জন জেলে।
এছাড়া শনিবার রাত থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যন্ত গোটা জেলার কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি আবার কোথাও ভারি বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাস বইছে। এতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতিসহ অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে গেছে, উপড়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অতি বৃষ্টির কারণে জেলার ৬৩টি ইটভাটার অন্তত ২৫ লাখ লাখ কাঁচা ইট গলে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন এবং চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ এলাকায় কয়েক মিনিটের টর্নেডো আঘাত হানে। এতে অন্তত শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় লালমোহনের পিয়ারিমোহন গ্রামে ঘর চাপা পড়ে আহত হয় অন্তত ১০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অপর দিকে রবিবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়ো বাতাসে চরফ্যাসন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ফলে জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
অপরদিকে চরফ্যাসনের আব্দুল্লাহপুরের ২৪ জেলেসহ একটি ট্রলার চাঁদপুর জেলার মৎস্য ঘাট থেকে মাছ বিক্রি করে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে আসলে ভোলার ইলিশা মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ১০ জন জীবিত উদ্ধার, একজনের লাশ উদ্ধার ও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১৩ জন জেলে। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।
আরও পড়ুন: বুক চিতিয়ে লড়ে গেলো অপরাজেয় সুন্দরবন
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, যাদের ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে তাদের ঘর নির্মাণ করার জন্য ২ বান্ডিল টিন ও ৬ হাজার করে টাকা ও চাল দেওয়া হবে। এছাড়া গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্যে নগদ ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় প্রশাসক থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শনিবার রাতে জেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের ৩৯টি মুজিব কিল্লায় লক্ষাধিক গবাদি পশু নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছিল।
ইত্তেফাক/এসি

