ভাণ্ডারিয়ায় বুলবুলের তাণ্ডব, ক্ষতি পাঁচ কোটি টাকা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:১৫

পিরোজপুরের ভাণ্ডরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, সড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে জাওয়াদ নামে চার বছরের এক শিশু মারা যায়। 

উপজেলায় প্রাথমিক ক্ষতির পরিমাণ সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নাজমুল আলম জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসাসহ ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৮ কিলোমিটার রাস্তা ও ৩০০ হাস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের এ বছর আমন রোপার পরিমাণ ১০ হাজার ২ হেক্টর জমিতে, তা থেকে ঝড়ের কারণে ৬ হাজার ১২০ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ২শ হেক্টর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে গবাদিপশু, হাস-মুরগিসহ মোট এক কোটি, মৎস্য অধিদপ্তরে ৩০ লাখসহ অন্যান্য সব মিলিয়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে।


গাছ উপড়ে পড়েছে বাড়ির উপর। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে পিরোজপুর-২ ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী এ তিন উপজেলার সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, গ্যাসলাইট প্রদান করেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব এলাকার মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ নেন।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। সার্বক্ষণিক তদারকি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নাজমুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. তৌহিদুল ইসলাম, ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনসহ স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ